সুন্দরবন সংলগ্ন শুঁটকি পল্লীতে এখন উৎসবের আমেজ

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
সুন্দরবন সংলগ্ন শুঁটকি পল্লীতে এখন উৎসবের আমেজ। জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ আহরণ করছেন। শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। গত বছরের চেয়ে কয়েক গুণ শুঁটকি উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। যেখানে এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ রাজস্ব আহরণের তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ।

জানা গেছে, প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত সুন্দরবনের দুবলারচরসহ বঙ্গোপসাগরের ছয়টি চরে মংলা, রামপাল, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ উপকূলের প্রায় ২০ হাজার জেলে অস্থায়ী বসতি স্থাপন করে মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়া করেন। জেলেরা সমুদ্র থেকে লইট্যা, ছুরি, চ্যালা, ভেটকি, কোরাল, চিংড়ি, রূপচাঁদা, কঙ্কন, মেদসহ বিভিন্ন প্রকার মাছ আহরণ করে মাচায় শুটকি তৈরি করেন। অনেকে চর থেকেই শুটকি বিক্রি করে দেন। কেউ বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সেই শুঁটকি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে রপ্তানি হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এবার আলোরকোল (দুবলারচর), মেহের আলীর চর, অফিস কেল্লা, মাঝের কেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলারচরে মোট এক হাজার ২৫টি জেলেঘর, ৪৮টি ডিপো ঘর, নিত্যপ্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির দোকান ৭৯টি ও সাতটি ভাসমান দোকানের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্র আরো জানায়, এবার ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪ টাকা রাজস্ব এবং ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫৬ টাকা ভ্যাট আদায় হয়েছে। যেখানে গত বছর পুরো মৌসুমে রাজস্ব আহরণ হয়েছিলো ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৬ টাকা এবং ভ্যাট ছিলো পাঁচ লাখ ছয় হাজার ৮২৫ টাকা।

অবশ্য জেলেরা জানিয়েছেন, গত বছর ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ, দস্যুদের হামলা ও লুটের কারণে তারা ঠিকমতো মাছ ধরতে পারেননি। ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন বিভাগের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদনও করেছিলেন তারা। তবে এবার সমুদ্রে ডাকাতদের উৎপাত নেই বলে জানান মাঝের কিল্লার চরে মাছ আহরণকারী রামপাল উপজেলার পেড়িখালী গ্রামের আক্কাস আলী। তিনি বলেন, সমুদ্র শান্ত। আমরা নিজেদের মতো মাছ ধরতে পেরেছি। গেলো বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি মাছ পেয়েছি।

একই কথা বলেন আলোর কোলের শুঁটকি ব্যবসায়ী নুর ইসলাম।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের নেতা কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শুঁটকি মৌসুমে বনে ও সমুদ্রে দস্যুদের খুব উৎপাত ছিলো। বেশ কয়েক বছর ধরে দস্যুদের আত্মসমর্পণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার জেলেরা শান্তিতে মাছ আহরণ করতে পারছেন। এবার অনেক জেলে ও ব্যবসায়ী বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, মাছ আহরণের সময় প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় এবং দস্যুদের উৎপাত না থাকায় জেলেরা অনেক বেশি মাছ আহরণ করতে পেরেছেন। যার ফলে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। আমরা আশা করি, এ মৌসুমে গত বছরের চেয়ে তিন গুণ রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।