শেখ হাসিনা সেতুর চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দিলো পুলিশ

ফাইল ছবি।

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
লালমনিরহাট-রংপুর সড়কে তিস্তা নদীর ওপর সদ্য নির্মিত গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুতে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে সেতুটির উত্তর পাশের কথিত চেন ভেঙে দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করে দেয় রংপুরের গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ। এর আগে চালক ও যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুতে চাঁদাবাজির অভিযোগ’ শিরোনামে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং এ নৈরাজ্য বন্ধের দাবি তুলেন সাধারণ মানুষ। এদিকে কথিত চেন ভেঙে দিয়ে চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়ার দাবিতে গত শনিবার সকালে মহিপুর-রংপুর সড়কে মানববন্ধন করেন যাত্রী সমিতি নামে একটি সংগঠন।

জানা যায়, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের মহিপুর ও লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা কাকিনা ইউনিয়নে প্রায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতু’ নির্মাণ করে সরকার। সেতুটি নির্মাণ কাজের তদারকি করেন কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর। ২০১৮ সালের শেষের দিকে টোল ফ্রি এ সেতুটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর এ সেতু হয়ে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করে। এতে দুই জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নের দ্বার খুলে যায়। বেশি উপকৃত হয় লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলাসহ বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকার মানুষ। এসব এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পথও সুগম হয়। এ সেতু দিয়ে ভারী যানবাহনের অনুমতি না থাকায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপ, থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশার যাতায়াত বেশি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির শ্রমিক নেতা শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে প্রতি অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারে ১০ থেকে ২০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করছিলো। চাঁদা না দিলে শ্রমিক সংগঠনের চেনমাস্টার খ্যাত চাঁদাবাজদের হাতে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন খোয়াসহ মারপিটের শিকার হতেন চালকরা।

চালক ও যাত্রীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক সচিত্র প্রতিবেদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যার ফলে দীর্ঘদিন পরে টনক নড়ে প্রশাসনের। শুক্রবার রাতে সেতুটির উত্তর পাড়ের কথিত চেন ভেঙে দিয়ে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করে দেন রংপুরের গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ।

চাঁদাবাজি বন্ধের পরে স্বস্তি প্রকাশ করে অটোচালক রহিম ও মমিনুর রহমান বলেন, গরিব শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো পয়সা আর দিতে হচ্ছে না চাঁদাবাজদের। জনভোগান্তি ও নেই যাত্রীদের। এজন্য পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তারা।

রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিন্নাত আলী বলেন, গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর উত্তর পাশে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারের চেন ও অবৈধ পার্কিং ভেঙে দেয়া হয়েছে। আগামী দিনে যাতে এমন চেন ও পার্কিং করে জনভোগান্তি করা না হয় সেজন্য শ্রমিক নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।