ভারতরত্ন পাচ্ছেন প্রণব-ভুপেন-নানাজি

ফাইল ছবি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
ভারতের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ পাচ্ছেন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা এবং সমাজসেবী নানাজি দেশমুখ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে কংগ্রেস মনোনীত রাষ্ট্রপ্রধান প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ভারতরত্ন খেতাব দেয়ার পেছনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও দেখছেন অনেকে।

কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে, হিন্দি বলয়ে জমি ক্ষয় হতে শুরু হওয়ার পর আসন্ন লোকসভা ভোটে পূর্ব ভারতই বিজেপির পাখির চোখ। তাই প্রণববাবুকে ‘ভারতরত্ন’ দিয়ে বাংলার মন জয়ের চেষ্টা করলেন মোদী। কংগ্রেস এবং তৃণমূলকেও চাপে ফেলার চেষ্টা করলেন।”

পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন পেরিয়ে ২০১২ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এই পদে তিনিই প্রথম বাঙালি। ২০১৭ সালে দায়িত্ব ছাড়ার পর অবসর কাটাচ্ছেন তিনি। এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত প্রণব মুখোপাধ্যায় বিয়ে করেছেন নড়াইলের মেয়ে শুভ্রা মুখোপাধ্যায়কে। ২০১৫ সালে শুভ্রার মৃত্যু হয়।

‘ভারতরত্ন’ ঘোষণার পর মোদী এক টুইটে বলেন, “প্রণবদা আমাদের সময়ের একজন অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক। তিনি নিঃস্বার্থ ও অক্লান্তভাবে দশকের পর দশক দেশের সেবা করেছেন। তার প্রজ্ঞা ও মেধা অতুলনীয়।”

প্রণব মুখোপাধ্যায় টুইটে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, “আমি সব সময় বলেছি, আজ আবার বলছি, এই মহান দেশের মানুষদের যতটা না দিতে পেরেছি, তার থেকে অনেক বেশি পেয়েছি।”

আসামের ভুপেন হাজারিকা একাধানে গায়ক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, চলচ্চিত্র নির্মাতা। গণমানুষের গানের জন্য বাঙালিদের কাছেও ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি।

২০১১ সালে মৃত্যুর আগে নিজের মতাদর্শিক ধারার বিপরীতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে অনেকের সমালোচনায় পুড়েছিলেন ভুপেন হাজারিকা।

ভুপেনকে ভারতরত্ন খেতাব দেয়ার পেছনেও রাজনৈতিক গন্ধ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নাগরিকত্ব বিল নিয়ে আসামে যে ক্ষোভ চলছে, এটা তা প্রশমনে মোদীর চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভুপেনকে নিয়ে টুইটে মোদী লিখেছেন, “তার গান ও সঙ্গীত প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জনপ্রিয়। তিনি ভারতের সঙ্গীতের ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন।”

সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য নানাজিকে ভারতরত্ন দেওয়াকেও সঙ্ঘ পরিবারকে খুশি করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর মধ্যেও লালকৃষ্ণ আডবাণীকে ভারতরত্ন না দেয়ায় বিজেপির অনেকে ক্ষুব্ধ বলেও খবর এসেছে।