‌‘পরিচালকদের ‘হেনস্তা ও চাঁদাবাজি’ থেকে রক্ষা করতে হবে’

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ফাইল ছবি।

বিনোদন ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার (বিএফডিসি) নতুন পরিচালক যারা ছবি নির্মাণের আগে নিবন্ধন নিতে আসেন, তারা হেনস্তা ও চাঁদাবাজির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন মেধাবী নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আজ শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১ টার পর এফডিসিতে পরিচালক সমিতির ২০১৯-২০ মেয়াদে নির্বাচনে ভোট প্রদান শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফারুকী বলেন, নতুন চলচ্চিত্র নির্মাতা আসলে পরীক্ষার নামে হেনস্তা করা হয়। ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। এগুলো পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। পরীক্ষার নামে চাঁদাবাজি ও হেনস্তা দুটোই বন্ধ করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে বলছি, নতুন ব্লাড ঢোকাকে ওয়েলকাম করতে হবে।

‘ব্যাচেলর’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’ ও ‘ডুব’ ছবির নির্মাণের কারিগর ফারুকী বলেন, এই হেনস্তা ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে পরিচালক সমিতি তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলবে। কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতার শুটিংয়ে যদি বাধা আসে, ওই বাধার বিরুদ্ধে পরিচালক সমিতির দাঁড়াতে হবে। ছবি নিয়ে সেন্সর বোর্ড যদি আটকে দেয়, তার বিরুদ্ধে পরিচালক সমিতিকে দাঁড়াতে হবে। এটা ঈমানী দায়িত্ব। নির্মাতা যেকোনো সমস্যায় পড়লে পরিচালক সমিতিকে দাঁড়াতে হবে।

ফারুকী বলেন, পরিচালক সমিতি যদি এসব কাজ না করে, নির্মাতাকে নিজের লড়াই যদি নিজেকেই করতে হয় একসময় চলচ্চিত্র নির্মাতারা মনে করবেন এই পরিচালক সমিতির কোনো দরকার নেই। তাই পরিচালক সমিতির এখন সময় এসেছে ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের যে প্রয়োজনীয়তা এবং ভূমিকা রয়েছে এটা প্রতিষ্ঠিত করা। আর এই প্রতিষ্ঠা করার একমাত্র উপায় হল যারা ছবি বানাচ্ছেন তাদের পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, সংগঠনকে কমিটির সংগঠন মনে না করে সকল পরিচালকের সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। নির্মাতা কোন পক্ষের, কার লবিংয়ের, সাদা, কালো, হলুদ নাকি বেগুনী কোন রঙের এসব ভুলে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

এমনিতেই ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খারাপ। তার মধ্যে পরিচালক সমিতি যদি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তাহলে বিষয়টা আরো ‘ভয়ানক’ হবে বলে মনে করেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

পরিচালক সমিতির গত কমিটির কাজে আপনি সন্তুষ্ঠ কি না জানতে চাইলে বেশ কৌশলী মন্তব্য করেন ফারুকী। তিনি বলেন, এই প্রশ্নের উত্তরট না দেই। মানে ঢালাওভাবে সন্তুষ্ঠ না আবার সন্তুষ্ঠ এটা বলা যাবে না। কিছু কাজে সন্তুষ্ঠ আবার কিছু কাজে সন্তুষ্ঠ না।

ঠিক এই সময়ে চলচ্চিত্র সমিতি কতটা আপনার পাশে রয়েছে? প্রশ্ন রাখলে ফারুকী বলেন, সঙ্গে থাকা এক জিনিস আর আর সঙ্গে থেকে কার্যকরি ভূমিকা রাখা আরেক জিনিস। আমার ছবির ক্ষেত্রে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে থাকে। সেই ‘ব্যাচেল’ ছবি থেকেই এটা শুরু হয়েছে। সব ছবি সেন্সর বোর্ডে একই ট্রমার ভেতর দিয়ে যায়। এবার ‘শনিবার বিকেলে’র ক্ষেত্রে একটা অপ্রত্যাশিত ব্যাপার ঘটলো। প্রথমবার সেন্সর বোর্ডের সবাই ছবিটি দেখে পছন্দ করলো। দ্বিতীয়বার দেখার পর সেই পছন্দটা উল্টে গেলো। ছবিটির কিন্তু কিছু বদলায়নি শুধু তাদের সিদ্ধান্তটা বদলে গেলো। সেটা কেন আমরা জানিনা। এমন কোন ঘটনা যদি ঘটতো তাহলে আমার আমার অনুমান পৃথিবীর যেকোন দেশের পরিচালক সমিতি এটা স্ট্রংলি ’প্রটেস্ট’ করতো। এইখানে স্ট্রংলি অবস্থান করা মানে কিন্তু সেন্সর বোর্ডের বিরুদ্ধে বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাওয়া নয়। আমরা রাষ্ট্র, সরকার ও সেন্সরবোর্ড সবার মধ্য থেকেই আমাদের স্বার্থ রক্ষায় ভুমিকা নিতে পারি।

তাহলে বলতে চাচ্ছেন আপনি পরিচালক সমিতির সদস্য হয়েও এই সমিতির কোন কার্যকরি সহযোগিতা পাননি? উত্তরে ‘ডুব’ ছবির এ নির্মাতা বলেন, ‘এটা আমার বলার কিছু নেই। আপনারা পরিচালক সমিতির কার্যক্রম দেখলেই এটা বুঝতে পারবেন। তবে আমি শুধু আমার ছবির আটকানোর বিষয়ে কথা বলছিনা। এখানে যে কোন চিত্রপরিচালক ট্রাবলে পরলে সবার আগে পরিচালক সমিতির এগিয়ে আসা দরকার। পৃথিবীর সব দেশে এটাই হয়। হয়না কেবল আমাদের দেশে। তবে এগিয়ে আসার চেয়েও আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সমিতিতে নতুন সদস্য প্রবেশের বেলায়। আমি আবারও বলছি নতুন সদস্য নেওয়ার বেলায় পরীক্ষা ও চাদাবাজির বিষয়টি বন্ধ করা হোক।’

এবার পরিচালক সমিতির নির্বাচনে নির্বাহী পরিষদের ১৯টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুটি প্যানেল ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দুই প্যানেল থেকে ৩৮ জন প্রার্থী লড়ছেন এবারের নির্বাচনে। তাদের সঙ্গে থাকছেন চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মোট ৪২ থেকে ভোটারদের প্রাপ্ত ভোটে নির্বাচিত ১৯ জন পরিচালককে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন হবে।

২০১৯-২০ মেয়াদে পরিচালক সমিতির নির্বাচনে মোটা ভোটার ৩৬২ জন। সকাল ৯ টা থেকেই ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। শেষ হবে বিকাল ৫ টায়।