দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি দোকানিকে গুলি করে হত্যা

ফাইল ছবি

ফেনী সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ-ওয়েস্ট প্রভিন্সে দোকানের ফ্রিজের ভেতর থেকে বাংলাদেশি দোকানি মহিন উদ্দিন মহিনের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মহিনের মৃত্যুর খবর দেশে আসার পর তাঁর ফেনীর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত মহিন (৪০) ফেনীর দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চন্দ্রদ্বীপ গ্রামের রমিজ উদ্দিন মিয়ার বাড়ির তনু মিয়ার ছেলে। পরিবারের বড় সন্তানকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল হলে পড়েছেন মহিনের বাবা-মা। তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে পরিবারটি সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে বলে দাগনভূঞার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান জানান।

নিহতের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জীবিকার তাগিদে বছর তিনেক আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মহিন। নর্থ-ওয়েস্ট প্রভিন্সের রাস্টেনবার্গ এলাকায় দোকান দিয়ে তিনি ব্যবসায় করে আসছিলেন। কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদার জন্য তাঁকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলো। বৃহস্পতিবার স্থানীয়রা দোকানের ফ্রিজের ভেতরে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পায়।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের হিসাবে সেখানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ২০ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে প্রায় পৌনে এক লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই মুদি দোকান, মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক্সের দোকান চালান। কেউ কেউ রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। তবে আফ্রিকার এই দেশটি প্রবাসীদের জন্য ক্রমশ অনিরাপদ হয়ে উঠছে। প্রবাসীদের দোকানে ডাকাতি, চাঁদার দাবিতে অপহরণ বা হত্যা সেখানে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেবল ২০১৮ সালেই শতাধিক প্রবাসী সেখানে এ ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই বাংলাদেশি।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত বুধবার রাতে সন্ত্রাসীরা মহিনের দোকানে হামলা করে লুটপাট শুরু করে। মহিন বাধা দিলে তাকে গুলি করে মেরে মরদেহ ফ্রিজে রেখে তারা চলে যায়।’

বৃহস্পতিবার দোকানের ফ্রিজের ভেতরে তার গুলিবিদ্ধ মরদেহ পেয়ে স্থানীয়রা দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত মহিনের আত্মীয় আনোয়ার হোসেনকে খবর দেয়। পরে আনোয়ার বাংলাদেশে ফোন করে মহিনের পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি জানান।

হুমায়ুন বলেন, ‘ভাইয়া আফ্রিকা যাওয়ার এক বছর পর আমাকেও নিয়ে গিয়েছিলো। গতবছর শেষ দিকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে আসি।’

মহিনের তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে চাঁদপুরে। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাদের কান্না আর থামছে না।