তালায় বাজারজাত হচ্ছে ইথিলিন এসিড ও শ্যাম্পুযুক্ত কুল

নজরুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
সাতক্ষীরার তালা উপজেরায় আম ও কুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ও চাষীদের কারণে এ অর্জন ম্লান হতে চলেছে। মৌসুম শুরু হতে না হতেই লেভনীয় কুল বাজারজাত করতে বাগানেই ইথিলিন এসিড ব্যবহারপূর্বক তা সংগ্রহ করে শ্যাম্পু দ্বারা চকচকে করা হচ্ছে। ফলে কুলের গুণগত মান তো থাকছেই না বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে পড়ছে। কৃষির অন্যতম অর্থনৈতিক জোন হিসাবে সাতক্ষীরার খ্যাতি ধরে রাখতে প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

সরেজমিন এ সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালা উপজেলায়, বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে আম ও কুলের চাষ। অনেক ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে মৎস্যঘেরের ভেড়িতে এ দুই ফলের চাষ হচ্ছে। অত্যান্ত লাভজনক হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অভ্যন্তরীণ রুটের ব্যবসায়ীরা ফল পাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারো গাছ ক্রয় করে। এরপর গাছ থেকে মাত্রাতিরিক্ত ফলন পেতে রাসায়নিকের সঙ্গে বিভিন্ন পদের হরমোন ব্যবহার করে। যা মানবদেহের ক্যান্সার থেকে শুরু করে লিভার, কিডনি, চর্ম এমনকি মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ করে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, কুল পাকার মোক্ষম সময় শুরু না হলেও কুল পাড়তে শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। তারা অপক্ক কুলে ইথিলিন এসিডের সংক্রমণ ঘটিয়ে একসঙ্গেই বাগানের কুল পাকিয়ে বাজারজাত করছে। প্রাকৃতিকভাবে কুল পাকার সঠিক সময় গাছের দুই একটি কুল পাকলে তা থেকে ইথিলিন এডিস পুরো গাছে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কুল পাকতে একটু সময় লাগে। তাই ব্যবসায়ীরা একবারেই কুল বাজারজাত করতে ইথিলিন এসিড ব্যবহার করছে। গাছ থেকে কুল সংগ্রহ করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে প্যাকেট করছে। এমন একটি ঘটনা অনুসন্ধানের সময় দেখা যায়, জেলার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ভৈরবনগর নামক স্থানে। যেখানে আড়ৎদারের আড়তেই ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক কৃষকের নিকট থেকে কুল ক্রয় করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য না রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে তা প্যাকেট করছে। এ সময় তাদের নিকট শ্যাম্পু দিয়ে কেনো ধোয়া হচ্ছে তা জানতে চাইলে তারা জানান, সবাই ধুচ্ছে তাই আমরাই ধুচ্ছি। এটা মারাত্মক অপরাধ জানালেও তারা বলে, আমাদের প্রশাসনের সবাইকে ম্যানেজ করা। কিছুই হবে না।

তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরিনকে জানানো হলে, তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। কিন্তু কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

তালার আম ও কুলের মান ধরে রাখতে প্রশাসনিক তদারকি বাড়িয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ বলে দাবি জানান সাধারণ ভোক্তারা।