বাগেরহাটে মিষ্টি পানির দেশি মাছের শুটকি উৎপাদন

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় মিষ্টি পানির দেশি মাছের শুটকি উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদনকারীরা জানান, এই শুটকি মাছের বিশেষ চাহিদা রয়েছে গোপলগঞ্জের কোটালিপাড়া, ঘাঘর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চান্দিনা, সৈয়দপুর, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে চিতলমারী অঞ্চলের মানুষের কাছে শুটকি মাছের চাহিদা এখনো তৈরি হয়নি। সরকারি সহযোগিতা পেলে এই ব্যবসার প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন উৎপাদনকারীরা।

শুটকি উৎপাদনকারী শিবপুর গ্রামের হাবিব কাজী জানান, প্রতিটি শুটকিখোলা হতে সপ্তাহে পাঁচ থেকে আট মণ মাছ রপ্তানি হচ্ছে। যার দাম প্রায় এক লাখ টাকা। চিতলমারী উপজেলা যেহেতু মিষ্টি পানির ঘের প্রবণ এলাকায় রয়েছে বড় বড় বিল।তাই প্রাকৃতিক নিয়মেই এখানে প্রচুর পরিমাণে ছোট মাছ জন্মায় এবং মারা যায়। তাই মানুষের চাহিদা বিবেচনা করে এই সব মাছ শুকিয়ে বাজারজাতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে প্রতি বছর হাজার মন মিষ্টি পানির ছোট মাছ বিনষ্ট না হয়। তিন কেজি কাঁচা মাছ শুকানোর পর এক কেজি পরিচ্ছন্ন শুটকি মাছ পাওয়া যায়। কাঁচা মাছ প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা দরে ক্রয় করা হয়। তা প্রক্রিয়ার পর শুটকি তৈরি শেষে বিক্রি হয় প্রতি কেজি বাইন মাছ ৮০০ টাকা, শৈল মাছ ৭০০ টাকা, টেংরা মাছ ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৫০ টাকা ও পুঁটিমাছ ১০০ টাকা দরে।

তিনি আরো জানান, চিতলমারী উপজেলার চরকুরালতলা, বারাশিয়া, কলিগাতী, হিজলা, ডুমুরিয়া গ্রামে গত তিন বছর ধরে সাদা মাছ শুকিয়ে বিক্রির প্রবণতা শুরু হয়েছে। কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস শুটকি তৈরির মৌসুম। চিংড়ি ও সাদা মাছের আড়তগুলো হতে প্রতিদিন সকালে অল্প দামে তাজা ছোট মাছ ক্রয় করা হয়। এরপর নারী শ্রমিকেরা মাছের আঁশ ছাড়িয়ে বেছে পরিস্কার করে। মাছগুলো পরিস্কার পানিতে ধুয়ে বানায় (মাচা) শুকানো হয়। তিন-চার দিনের রোদে মাছগুলো শুকিয়ে শক্ত হয়। পাইকারী ব্যবসায়ীরা শুটকিখোলা হতে মাছ নিয়ে সরবরাহ করে দেশের বিভিন্ন বাজারে।

চিতলমারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিষ প্রয়োগহীনভাবে এখানে শুটকি উৎপাদন হচ্ছে। মাছে বিষ প্রয়োগ এবং শিশু শ্রমিক ব্যবহার না করলে কোনো ক্ষতি নেই। শুটকি পল্লী তৈরি ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি। চলতি বছর চরকুরালতলা, বারাশিয়া ও রায়গ্রাম এলাকায় শুটকিখোলা তৈরি হয়েছে। চিতলমারী এলাকার মানুষের শুটকি মাছ খাওয়ার প্রবণতা নেই।

চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ সজল কান্তি বিশ্বাস জানান, মিষ্টি পানির শুটকি মাছে প্রচুর ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি রয়েছে। এতে দেহের হাড় ক্ষয়রোধসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। মিষ্টি পানির ছোট মাছ অত্যন্ত পুষ্টিকর। তবে কোটা-বাছা করাটা কষ্টকর।