ডেমরায় দুই শিশু হত্যা: গ্রেপ্তার দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
রাজধানীর ডেমরা কোনাপাড়ায় দুই শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় দু’জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পরদিন গ্রেপ্তার সিরামিক মিস্ত্রী গোলাম মোস্তফা (২৮) ও তার ফুপাতো ভাই আজিজুল বাওয়ানীকে (২৮)  অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনার ১৬ দিনের মাথায় গতকাল বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কমকর্তা ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম।

দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণ চেষ্টা, হত্যা ও আলামত নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে দুই আসামির বিরুদ্ধে। অপরাধ প্রমাণ হলে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড। দুই আসামি ইতোমধ্যে অপরাধ স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে এ মামলায়।

দণ্ডবিধির সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন যুক্ত থাকায় এ মামলার বিচার হবে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে।

আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকতা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘জমা দেয়া অভিযোগপত্রটি দুপুর পর্যন্ত আমাদের হাতে আসেনি। এ কারণে এখোনো বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি।’

হত্যার শিকার দুই শিশু ফারিয়া আক্তার দোলা (৭) ও নুসরাত জাহান (৫) স্থানীয় একটি নার্সারি স্কুলে পড়তো। ডেমরার কোনাপাড়ায় শাহজালাল রোডে পাশাপাশি দুটি বাসায় থাকতো তারা।

গত ৭ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ির সামনে খেলার মধ্যেই নিখোঁজ হয় মেয়ে দুটি। তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপর রাতে স্থানীয় আবুলের বাড়ির নিচতর ভাড়াটিয়া মোস্তফার বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

সেদিন মোস্তফাকে বাসায় না পেলেও তার স্ত্রী আঁখি ও শ্যালককে আটক করা হয়। তদন্তে নেমে পরদিনই মোস্তফা ও আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নুসরাতের বাবা পলাশ হাওলাদার ডেমরা থানায় মামলা করেন।

দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রথমে ধারণা করেছিলাম, অতো ছোট বাচ্চাদের মুক্তিপণের জন্য নেওয়া হয়েছে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে দুজন বলে, ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে তারা নুসরাত আর দোলাকে সোমবার দুপুরে বাসায় নিয়ে যায়।’

পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদ বলেন, ‘ঘটনার সময় মোস্তফার স্ত্রী গার্মেন্টকর্মী আঁখি ছিলেন কারখানায়। মোস্তফা ও আজিজুল তখন বাড়ির বাইরে খেলতে থাকা নুসরাত আর দোলাকে ‘লিপস্টিক কিনে দেয়ার প্রলোভন’ দেখিয়ে বাসায় নিয়ে যায়।পরে দুজন ইয়াবা সেবন করে জোরে গান বাজিয়ে মেয়ে দুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে।’

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হত্যার পর দুই শিশুর মরদেহ খাটের নিচে রেখে দেন মোস্তফা ও আজিজুল। পরে আজিজুল ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান, মোস্তফা তখনও ছিলেন।

সন্ধ্যায় আঁখি বাসায় ফিরে স্বামীর ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ দেখে সন্দিহান হয়ে ওঠেন। আঁখি প্রতিবেশীর বাসায় গেলে ওই ফাঁকে মোস্তফা বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ ওই বাসার খাটের নিচ থেকে মেয়ে দুটির মরদেহ থেকে উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা এবং আরো কিছু আলামত সে সময় উদ্ধার করা হয় বলে জানান উপ কমিশনার ফরিদ।