আত্মহত্যা করেছিলেন সৌদি দুই বোন

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
গত অক্টোবরে নিউইয়র্কে হাডসন নদীতে একসঙ্গে টেপ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় সৌদি দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁদের হত্যা করা হয়েছে, নাকি তারা আত্মাহত্যা করেছেন- এ নিয়ে তৈরি হয় রহস্য। অবশেষে সেই রহস্যের জাল খুলেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ। তারা বলছে, ওই দুই বোন আত্মহত্যাই করেছিলেন।

গত বছর ২৪ অক্টোবর রোতানা ফারিয়া (২২) ও তাঁর ছোট বোন তালা ফারিয়ার (১৬) মরদেহ নিউইয়র্কে হাডসন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিলো না। তবে তাঁদের কোমর, হাঁটু ও গোড়ালি একসঙ্গে বাঁধা ছিলো।কেনো দুই বোনের মৃত্যু ঘটলো, তাঁদের মরদেহ কীভাবে হাডসন নদীতে ভেসে এলো— এর কোনো কিনারা করতে পারছিলো না নিউইয়র্ক পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিলেন ওই দুই বোন। ২০১৫ সালে সৌদি আরব থেকে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে আসেন। সে সময় তাঁদের সঙ্গে তাঁদের মা ছিলেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বোন প্রায়ই তাঁদের ভার্জিনিয়ার বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতেন। ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা ওই বাড়িতে আর থাকতেনও না। গত বছরের আগস্টে নিউইয়র্কে চলে আসেন। নিউইয়র্কে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানের হোটেলে ওঠেন তাঁরা। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ব্যয় মেটাচ্ছিলেন। ঘটনার দিন এক প্রত্যক্ষদর্শী তাঁদের হাডসন নদীর পাশে একটি খেলার মাঠে দেখতে পান। সে সময় ওই দুই বোন প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান মেডিকেল পরীক্ষক বারবারা স্যাম্পসন বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ফারিয়া বোনেরা আত্মহত্যা করেছিলো। হাডসন নদীতে ঝাঁপ দেয়ার আগে তারা যেভাবে নিজেদের বেঁধেছিলো, তা থেকে বোঝা যায়, আত্মহত্যা করেছিলো তারা।’