১১ নৌ-চ্যানেলে ডুবোচর আটকা পড়ছে লঞ্চ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ফাইল ছবি।

নিউজ ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
নাব্যতা সংকটে পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদীতে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচর। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পটুয়াখালী-ঢাকা, গলাচিপা-ঢাকা, রাঙ্গাবালী-ঢাকা নৌপথসহ জেলার অভ্যন্তরীণ ১১টি নৌ-চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল। ভাটার সময় এসব নৌ-চ্যানেল দিয়ে ছোট-বড় লঞ্চই চলাচল করতে পারছে না। কখনো কখনো লগি দিয়ে পানি মেপে মেপে চলাচল করছে ওইসব লঞ্চ। ফলে লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এ অবস্থায় বিভিন্ন নদী দ্রুত যথাযথভাবে ড্রেজিং করা না হলে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে লঞ্চ চলাচল এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে পটুয়াখালী-ঢাকা, গলাচিপা-ঢাকা ও রাঙ্গাবালী-ঢাকাসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসব নৌ-চ্যানেলে দ্রুত ড্রেজিংয়ের দাবি জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষসহ পটুয়াখালীবাসী।

এদিকে ডুবোচরের কারণে পটুয়াখালী জেলা সদরের লঞ্চঘাটটি ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাটার সময় এ ঘাটে লঞ্চ ভেড়ানো এবং ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়া এখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দিনই সকালে-বিকালে আসা-যাওয়ার সময়ে নদীর মাঝখানে এবং ঘাটে আটকে থাকে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌপথ চলাচলকারী ডবল ডেকারের লঞ্চগুলো। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর ফলে জোয়ার-ভাটার হিসেব করে লঞ্চ চালাচ্ছেন চালকরা। এদিকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট সংলগ্ন লাউকাঠি ও লোহালিয়া নদীতে প্রতি বছর ড্রেজিং করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে পটুয়াখালী জেলা সদরের একমাত্র লঞ্চঘাটটি এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে পটুয়াখালী-ঢাকা রুটের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পটুয়াখালী নদীবন্দর সূত্রে জানা যায়, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে ১১টি নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে আট হাজার ৫০০ মিটার ড্রেজিং করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এসব নৌ-চ্যানেলের মধ্যে রয়েছে- পটুয়াখালী জেলা সদরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন লাউকাঠি নদীর এক হাজার মিটার, লোহালিয়া নদীর সেহাকাঠি খেয়াঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার, জৈনকাঠির মোড়ে ৫০০ মিটার, লোহালিয়া খেয়াঘাটের উভয় দিকে এক হাজার মিটার, বগার লঞ্চঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার, হোগলারচর এলাকায় এক হাজার মিটার, তেঁতুলিয়া নদীর বাউফলের নুরাইনপুর লঞ্চঘাট থেকে তেঁতুলিয়া নদীর মোহনা পর্যন্ত এক হাজার মিটার, কারখানা নদীতে ৫০০ মিটার, ঝিলনা নদীর মোড়ে এক হাজার ৫০০ মিটার, সোনাকান্দাচর এলাকায় ৫০০ মিটার ও কবাই নদীতে ৫০০ মিটার।

পটুয়াখালী-ঢাকাসহ অভ্যন্তরীণ নৌপথের লঞ্চ চালকরা জানান, পটুয়াখালীর লঞ্চঘাট সংলগ্ন লাউকাঠি ও লোহালিয়া নদীসহ বগা, ঝিলনা, কারখানা, হোগলারচরসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। এতে লঞ্চ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে লঞ্চ চালাতে হচ্ছে। তা না হলে ভাটার সময় লঞ্চ আটকে থাকে এবং জোয়ার এলে আবার চালু হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথের এমভি কাজল-৭ লঞ্চের প্রথম মাস্টার মো. কামাল হোসেন বলেন, পটুয়াখালী থেকে ঢাকা পর্যন্ত লঞ্চ চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে পটুয়াখালীর লঞ্চঘাটে ঢুকতে লোহালিয়ার মোড়সহ বগা, কবাই, কারখানা ও সোনাকান্দা এসব স্থানে অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। এতে প্রায়ই লঞ্চ আটকে পড়ে। এসব নদীতে লগি দিয়ে পানি মেপে মেপে লঞ্চ চলাতে হচ্ছে। কখনো কখনো এসব ডুবোচরে লঞ্চ ৪-৫ ঘণ্টা আটকে থাকে। এতে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

যাত্রী সোহেল রানা বলেন, প্রায়ই ডুবোচরে আটকে পড়ছে দোতলা ও ছোট লঞ্চগুলো। এ অবস্থায় অনেক সময় যাত্রীরা নৌকা কিংবা ট্রলারে নেমে যার যার গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

পটুয়াখালী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান জানান, পটুয়াখালীর যেসব নদীতে নাব্য সংকট রয়েছে, সেসব স্থানে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সব পয়েন্টে ড্রেজিং হয়ে গেলে আর নাব্য সংকট থাকবে না এবং নৌযান চলাচলেও আর কোনো সমস্যা হবে না।সূত্র : সমকাল।