ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনের করমজলে পর্যটকদের উপছে পড়া ভিড়

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
শীত মৌসুমে বিশ্ব ঐতিহ্য বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনের করমজলসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিনই দূর দূরান্ত থেকে এসব কেন্দ্রে আসছেন পর্যটকরা। বিশেষ করে বছরের শুরুতেই ভ্রমণে আসছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তবে দর্শনার্থীদের জন্য বসার ভালো ব্যবস্থা না থাকা, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন নাজুক ওয়াচ টাওয়ার নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. গোলাম ফেরদৌস বলেন, বাগেরহাটের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোয় ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ভিড় থাকে সবচেয়ে বেশি। আমরা সবসময় তাদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ফলে তারা কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই স্বচ্ছন্দ ভ্রমণ শেষে ফিরে যেতে পারেন।

ঢাকা থেকে সপরিবারে ষাট গম্বুজ মসজিদ দেখতে আসা মিজানুর রহমান নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ছোট বেলা থেকেই ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদের নাম শুনে আসছি। এখন নিজের চোখে দেখে খুব ভালো লাগলো।

একই কথা জানান ঝালোকাঠির রাজাপুর এলাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক মো: মাহাতাব হোসেন। তিনি বলেন, ষাট গম্বুজ মসজিদ নিয়ে অনেক আগে থেকেই আগ্রহ ছিলো। এর সৌন্দর্য দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। ছেলে-মেয়েরাও এখানে এসে আনন্দ পেয়েছে।

এদিকে সুন্দরবনের করমজল ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রেও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসছেন। বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের বানর, হরিণ ও কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তারা।

সিলেট থেকে আসা মিলন মোল্লা বলেন, করমজলে এসে হরিণ, বানর, কুমির, কচ্ছপসহ নানা প্রাণী দেখে মুগ্ধ হয়েছি। প্রকৃতই সুন্দরবনের সৌন্দর্য অসাধারণ। যারা এখানে আসছেন, তারা সবাই এ সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। তবে বসার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পর্যটন কেন্দ্রের অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার করা প্রয়োজন। তাহলে পর্যটকরা আরো বেশি ভ্রমণে আসবেন।

তবে অনেক দর্শনার্থী অভিযোগ করেন, ট্যুরিজম এলাকায় দর্শনার্থীদের জন্য বসার ভালো ব্যবস্থা নেই। যে ওয়াচ টাওয়ারটি রয়েছে, সেটির অবস্থা বেশ নাজুক। এখানে অবকাঠামোগত আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। যাতে করে দর্শনার্থীরা আরো ভালোভাবে এসব সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

এদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করমজলে হরিণ ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ডলফিনের প্রদর্শনী করা গেলে আরো দর্শনার্থী বাড়বে। একইসঙ্গে সুন্দরবনে যে অর্কিড রয়েছে, সেগুলোর বাগান ও প্রজাপতি গার্ডেন করা যেতে পারে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী ইকো ট্যুরিজমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, শীতে করমজলে অনেক দর্শনার্থী আসছেন।