‘বুলবুল ভাই আমাদের সুর সঙ্গীতের বৃক্ষ’

বিনোদন ডেস্ক, পিটিবিনউজ.কম
দেশের বরেণ্য সঙ্গীত সাধক ও মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন। মৃত্যুর খবর শুনে তাঁর আফতাব নগরের বাসায় ছুটে এসেছেন সুবীর নন্দী, কুমার বিশ্বজিৎ এন্ডু কিশোরসহ সঙ্গীত জগতের অনেকেই।

সদ্য প্রয়াত এই বরেণ্য সুরকার, গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক সম্পর্কে বলতে গিয়ে সঙ্গীত শিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ বলেন,
‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলে গেলেন। বুলবুল ভাইকে নিয়ে এখন কিছু বলার নেই। তাকে নিয়ে যা বলবো তার সবই তো আমাদের সামনে দৃশ্যমান। তার সম্পর্কে কে না জানে? তার সৃষ্টিই তার সম্পর্কে বলে দিচ্ছে। যাওয়ার আগে অনেক কিছুই দিয়ে গেলেন। তাকে নিয়ে আপনারা লিখতে বসলে বুঝবেন তিনি কী ছিলেন। তাকে নিয়ে লিখে কূল পাবেন না। তিনি আমাদের সুর সঙ্গীতের বৃক্ষ। অনেক ফল দিয়ে গেছেন।’

সাংবাদিকদের কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘তাঁর গান ছাড়া আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একবার ভাবুন। তাকে ছাড়া অনেকটাই খালি খালি মনে হবে। তার চলে যাওয়ায় আমাদের মাঝে এক প্রকার শূণ্যতা তৈরি হলো, ক্ষত সৃষ্ঠি হলো যেটা পূরণীয় নয়। বুলবুল ভাইয়ের সৃষ্টির সামারি টানুন। দেখুন, তিনি কী দিয়েছে আমাদের। গর্বে বুক ভরে যাবে।’

মঙ্গলবার পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে আমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সঙ্গীত শিল্পে সক্রিয় ছিলেন তিনি। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।

‘মেঘ বিজলি বাদল’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন তিনি। এরপর থেকেই উপহার দিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গান। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আব্দুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সকল জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হযেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোকাহত সঙ্গীত জগত। আজ আফতাব নগরে তার বাসায় সঙ্গীত জগতের অনেকেই ছুটে এসেছেন।

মৃত্যুর আগে কয়েকটা বছর নিরবে নিভৃতে কাটিয়েছেন। জীবনের শেষ দিনগুলো ছিলেন গৃহবন্দি। যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাক্ষী ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। অনেকেই যেখানে টাকা আর জীবনের হুমকিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সাক্ষী দিতে চাননি, সেখানে বুলবুল চুপ থাকতে পারেননি। বীরত্বই দেখিয়েছেন তিনি। তিনি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেছেন সত্যের কথা বলতে, ন্যায়ের পক্ষে রাষ্ট্রের হয়ে। মৃত্যু তাকে ভয় দেখাতে পারেনি।

বিজয় দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবসে ঘুম থেকে উঠতেই সুর ভেসে আসে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানের। আবার। এন্ডু কিশোরের কণ্ঠে ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’ এখনও হৃদয় ছুঁয়ে যায় সবার। এমন অনেক অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি।

বুধবার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শেষশ্রদ্ধা জানানোর জন্য সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। এরপর জোহর বাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নিয়ে আসা হবে এফডিসিতে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দাফন করা হবে শহিদ বুদ্ধিবীজী কবরস্থানে।