ফেসবুকে বুলবুলের শেষ স্ট্যাটাস ‘আমাকে যেন ভুলে না যাও…’

বিনোদন ডেস্ক, পিটিবিনিউজ,কম
না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুর আগে গত ২ জানুয়ারি সকালে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিজের একটি ছবি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমাকে যেন ভুলে না যাও… তাই একটা ছবি পোস্ট করে মুখটা মনে করিয়ে দিলাম।’

তার এই ক্যাপশনের শেষেই ছিলো প্রিয় দেশের লাল-সবুজ পতাকা, যে দেশের স্বাধীনতার জন্য কৈশোরেই তিনি লড়েছিলেন রণাঙ্গনে।

ছবিতে পরিপাটি সাজে বেশ হাস্যোজ্জ্বলই লাগছিলো প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক বুলবুলকে। কিন্তু দিন বিশেক পর ২২ জানুয়ারি সকালে সেই হাসিমুখ চিরতরে চুপ হয়ে গেছে। আর সে শোকে ভাসছে ভক্তদের হৃদয়।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলী বাদল ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনক চাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীত শিল্পীদের গাওয়া বহু জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা তিনি।১৯৭৬ সাল থেকে তার নিয়মিত গান করা।প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন।চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

এই জনপ্রিয় শিল্পীর জন্ম ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায়। ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বুলবুল কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাইফেল হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ স্মৃতি বিস্মৃতি নিয়ে বহু জনপ্রিয় গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন।

বুলবুল রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।