আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের যতো জনপ্রিয় গান

ফাইল ছবি।

বিনোদন ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই। আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি ) ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় আফতাব নগরে নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। প্রখ্যাত এ সংগীতশিল্পী পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেও তিনি ভক্ত ও শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরদিন।

‘মানুষ’ তার কর্মের মধ্যে বাঁচে’। ছোট্ট এই কথাটা যেমন দামি, তেমন সত্যি। একজন মানুষ যতো বিখ্যাত এবং ক্ষমতাধরই হন না কেনো, একদিন না একদিন তাকে মরতে হয়। শুধু থেকে যায় তার কাজ। সেই কাজ দিয়েই মানুষ অন্য মানুষের অন্তরে চিরকাল বেঁচে থাকেন। তেমনি বেঁচে থাকবেন সদ্য প্রয়াত সংগীত ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

সংগীত জগতে এই তারকা দ্যুতি ছড়িয়েছেন সেই ১৯৭৬ সাল থেকে। দীর্ঘ ৪২ বছর। সময়টা চার দশকেরও বেশি। এই দীর্ঘ কর্মজীবনে তার কীর্তিকেও দীর্ঘ করে গেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। রেখে গেছেন কিছু অমর সৃষ্টি। যেগুলোর মাধ্যমে সংগীতপ্রিয় মানুষের মনে আজীবন বেঁচে থাকবেন একজন গানের মানুষ বুলবুল।

বুলবুলের জনপ্রিয় দেশত্ববোধক যত গান
‘সবকটা জানালা খুলে দাও না’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’ এবং ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’- বুলবুলের লেখা ও সুর করা দেশত্ববোধক এই গান চারটি গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। চারটি গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়। সবগুলোই ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে’ অ্যালবামের। এছাড়া তার লেখা ও সুর করা ‘ও আমার আট কোটি ফুল দেখ গো মালি’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেব না’, ‘একতারা লাগে না আমার দোতারাও লাগে না’, ‘মাগো আর নয় চুপি চুপি আসা’, ‘সালাম বাংলাদেশ’, ‘জাগো বাংলাদেশ জাগো’, গানগুলোও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গানগুলো
চলচ্চিত্রে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের জনপ্রিয় গান কোনগুলো? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ কিংবদন্তি এই সংগীতজ্ঞের সব গানই সুপারহিট। তার মধ্যে কিছু গান আছে যেগুলো সংগীত পাগল মানুষরা সারাজীবন মনে রাখবেন। সেগুলো হলো- ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, ‘আমার বুকের মধ্যখানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘আমি তোমারই প্রেমও ভিখারী’, ‘আমার গরুর গাড়িতে বউ সাজিয়ে’, ‘আম্মাজান আম্মাজন’, ‘আমি জীবন্ত একটা লাশ’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, এবং ‘জীবন ফুরিয়ে যাবে ভালোবাসা ফুরাবে না জীবনে’ উল্লেখযোগ্য।

অ্যালবামের হিট গানগুলো
চলচ্চিত্রের মতো বিভিন্ন শিল্পীর জন্য একক ও মিশ্র অ্যালবামের গান লেখা ও সুর করেও নাম কামিয়ে গেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিৎ, মনির খান, আইয়ুব বাচ্চু, সাবিনা ইয়াসমিন ও সামিনা চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের অ্যালবামে তিনি কাজ করেছেন। সে সসব কাজের মধ্যে মনির খানের ‘আবার কেন পিছু ডাকো’, ‘আট আনার জীবন’, ‘চিঠি লিখেছে বউ আমার’, ‘বুকটা আমার ভাঙ্গা বাড়ি’ এবং কুমার বিশ্বজিতের ‘ও ডাক্তার’, ‘আমার তুমি ছাড়া কেউ নেই আর’, ‘তুমি কত লিটার দুধ করেছো পান’, ‘আপামর জনতার ধারণা’ এবং ‘যোজন যোজন দূর’ অন্যতম।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের লেখা ও সুরে সবচেয়ে বেশি গান গেয়েছেন প্লেব্যাক জাদুকর এন্ড্রু কিশোর। একটা সময় বাংলা গান মানেই ছিলো বুলবুল ও কিশোরের যুগলবন্দি। কিন্তু কিশোরসহ সবাইকে পর করে আপন ঠিকানায় চলে গেলেন গানের সেই কারিগর।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছেলে সামীর আহমেদ বলেন, বর্তমানে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃতদেহ আফতাব নগরে নিজ বাসায় রাখা হয়েছে। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নিয়ে আসা হবে শহীদ মিনারে।

প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দেশের একজন সংগীত ব্যক্তিত্ব। একাধারে গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক। ১৯৭০ দশকের শেষ লগ্ন থেকে অমৃত্যু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পসহ সংগীতশিল্পে সক্রিয় ছিলেন।

তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতির পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলী বাদল ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন।

সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, সৈয়দ আবদুল হাদি, এন্ড্রু কিশোর, সামিনা চৌধুরী, খালিদ হাসান মিলু, আগুন, কনকচাঁপাসহ বাংলাদেশি প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল নিয়মিত গান করেন ১৯৭৬ সাল থেকে।