ডাকসু নির্বাচন: সহাবস্থান চায় ছাত্রদল, আপত্তি নেই ছাত্রলীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের দ্বিতীয় দফা মতবিনিময় সভা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে আজ সোমবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। এই সভায় ডাকসু নির্বাচনে সহাবস্থানের অংশ হিসেবে মধুর ক্যান্টিনে এসে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর দাবি তোলে ছাত্রদল। এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কোনো আপত্তি নেই বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়।

সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সভায় গঠনতন্ত্র ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গঠনতন্ত্র নিয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছে তা সিন্ডিকেট সভায় উঠবে। সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আচরণবিধি নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা বিষয়টি দেখবেন।

তফসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে তফসিল দেয়া হবে। আমরা নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৩১ মার্চকে সামনে রেখেই এগোচ্ছি।

সভায় ছাত্র সংগঠনের নেতারা তাদের দাবির বিষয়ে প্রশাসনের সামনে বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় ভোটকেন্দ্র নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি ওঠে। ভোটকেন্দ্র হলে না রেখে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে করার দাবি জানান ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। তারা ভোটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবিও জানান। তবে ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগ হলের মধ্যে কেন্দ্র করার দাবি জানায়।

সভা শেষে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রদলসহ সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষে থেকে মধুর ক্যান্টিন, আবাসিক হলগুলোতে সহাবস্থানের দাবি করা হয়েছে। ভোটার এবং প্রার্থিতার ক্ষেত্রে যারা ডাকসুর ফি প্রদান করে সবাইকে এ সুযোগ দিতে হবে। এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা করা যাবে না।

ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থানান্তরের জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসাযোগ্য করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ সময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। তার পাশে থাকা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, এখন ডিজিটাল যুগ। দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম হলকেন্দ্রিক তাই ভোটকেন্দ্র হলের মধ্যে করা হোক। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে, কিন্তু ছাত্রদলকে ইতিবাচক ধারায় আসতে হবে। তাহলে তারা সহাবস্থান করতে পারবে। তিনি আরো বলেন, ছাত্রদল অন্তর্কোন্দলের কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছে। তাদের মধ্যে যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী তারা প্রভোস্টের মাধ্যমে হলে থাকলে আমাদের আপত্তি নেই।

ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, ভোটকেন্দ্র ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনে আনার জন্য প্রশাসনের কাছে অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন দাবি জানিয়েছে। আমরাও একই দাবিতে একমত। একইসঙ্গে, যারা ডাকসু ও হল সংসদের জন্য ফি দেন তাদের ভোটার ও প্রার্থী করার দাবি জানানো হয়েছে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছি। যাতে সবার জন্য সহাবস্থান থাকে। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আচরণবিধি কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, শুনেছি যারা এই দুই কমিটিতে দায়িত্ব পেয়েছেন তারা সবাই একটি দলের অনুসারী। আমরা চাই সব সংগঠনের নেতাদের পরামর্শ নিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হোক।

ভোটার ও প্রার্থীদের বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মতামত দিয়েছেন। সভায় ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা বয়সের বিষয়ে ৩০ বছরের মধ্যে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন বলে দাবি জানান। যারা দ্বিতীয়বারের মতো মাস্টার্স করছেন এবং যারা ডাকসু ও হল সংসদের ফি দেন, তাদের ভোটার করার দাবি জানান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। তিনি সান্ধ্যকালীন ছাত্রদেরও ভোটার করার দাবি জানান। এ সময় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও চাকরির বয়সের (৩০) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভোটার করা হোক।

ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন তাদের এ বক্তব্যের দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবি জানান। সভার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাস্থল থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, বয়স নিয়ে মতামতের ভিন্নতার কারণে তিনি সভা থেকে বেরিয়ে যান।

মতবিনিময় সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমাদ, উপউপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ সামাদ, প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানীসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের দুই গ্রুপ, জাসদ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রমৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র আন্দোলনসহ ১৪টি ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।