চালু হচ্ছে মোবাইল ফোনের ডেটাবেজ, উদ্বোধন মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
দেশে চালু থাকা মোবাইল হ্যান্ডসেটের তথ্য নিয়ে একটি ডেটাবেজ চালু করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। সেই ডেটাবেজ মাধ্যমে বৈধ ও অবৈধ সেট যাচাইয়ের পাশাপাশি চুরি বা ছিনতাই হওয়া ফোন বন্ধ করার সুযোগ থাকবে। মূলত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে হ্যান্ডসেটি আমদানি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

আগামীকাল মঙ্গলবার এ ডেটাবেইজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিটিআরসির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

জাকির হোসেন বলেন, ‘এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক জেনে নিতে পারবেন তার মোবাইল ফোনের তথ্য এই ডেটাবেজে আছে কি না। অন্যান্য সেবাও তিনি নিতে পারবেন। কী প্রক্রিয়ায় সেই সেবা পাওয়া যাবে তা উদ্বোধনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’

এই ডাটাবেজের মাধ্যমে কারো ফোন চুরি বা ছিনতাই হয়ে থাকলে এবং সেই হ্যান্ডসেটিটি বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি বা তৈরি করা হয়ে থাকলে তিনি সেটি বন্ধ বা লক করে দিতে পারবেন। এছাড়া ফোনটি ফেরত পাওয়ার পথও তৈরি হবে। বৈধভাবে আমদানি করা ও দেশে তৈরি সব মোবাইল হ্যান্ডসেটের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুপমেন্ট আইডেনটিটি বা আইএমইআই নম্বর নিয়ে এই ডেটাবেজ তৈরি হবে।

আইএমইআই নম্বর হলো একটি ফোন সেটের সনাক্তকারী নম্বর। ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানি ওই নম্বর দিয়েই ব্যবহারকারীর সব তথ্য সংরক্ষণ করে। কোনো ফোন হারিয়ে গেলে ওই নম্বরটি দিয়ে সেটি ট্র্যাক করা যায়।
একটি বৈধ ফোন সেটের জন্য ১৫ ডিজিটের স্বতন্ত্র আইএমইআই নম্বর দেয়া থাকে। মোবাইল ফোনের কি-প্যাডে *#০৬# পরপর চাপলে ওই মোবাইল ফোনের বিশেষ এই সনাক্তকরণ নম্বরটি পর্দায় ভেসে ওঠে।

দুটি আসল ফোনের আইএমইআই নম্বর কখনো এক হয় না। নকল ফোনে আইএমইআই নম্বর থাকে না, থাকলেও সেটি হয় জাল। সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের আইএমইআই নম্বরবিহীন সেটই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ।

আর আইএমইআই ডেটাবেজ চালু হলে মোবাইল ফোনের অপব্যবহার ও অপরাধ কমে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানি বা তৈরি করা মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের ডাটাবেইজ তৈরি এবং অবৈধ ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে গত মে মাসে একটি পদ্ধতির অনুমোদন দেয় বিটিআরসি। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনকে (বিএমপিআই) ডেটাবেজ তৈরির অনুমতিপত্র দেয়া হয়।

সরকারি কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বাজারে যেসব মোবাইল হ্যান্ডসেট আছে, তার প্রতি তিনটির একটিই নকল বা অবৈধ। তাদের হিসাবে প্রতি বছর এক কোটির বেশি অবৈধ ও নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট বাজার আসছে, যার বাজার মূল্য প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।