লালমনিরহাটে আ.লীগের দুই নেতার বিরুদ্ধে শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী সাবেক জাপা নেতা মোস্তাফিজার রহমান মঞ্জু ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলনের বিরুদ্ধে রাস্তার শতাধিক সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার ওই উপজেলা পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া এলাকায় এসব গাছ কাটা হয়।এ ঘটনায় পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুর রশিদ ও ওই এলাকার নছিব উদ্দিনের পুত্র আব্দুল আজিজ বাদি হয়ে হাতীবান্ধা থানায় পৃথক পৃথক দুটি অভিযোগ করেন।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজার রহমান মঞ্জু ওই উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের হাফিজুর রহমানের ও মিলন ওই এলাকার মোস্তফা মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে।

পাটিকাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিউল আলম রোকন বলেন, দক্ষিণ পারুলিয়ার ৮নং ওয়ার্ডের একটি রাস্তা পাকা করনের কাজ চলছে। যার মূল ঠিকাদার পাটগ্রামের বর্ষা এন্টারপ্রাইজের অজয় কুমার সুর। মূল ঠিকাদারের কাজ থেকে কাজটি ক্রয় করে নেন হাতীবান্ধার মোস্তাফিজার রহমান মঞ্জু ও মিলন নামে দুই ঠিকাদার। তারা রাস্তার মাটি কাটার নামে মঙ্গলবার সারাদিন রাস্তার দুই ধারের শতাধিক মেহগনি ও নীম গাছ কেটে নিয়ে যায়। আমি উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার ও হাতীবান্ধা থানা পুলিশ সরে জমিনে গিয়ে তদন্ত করে উক্ত ঘটনার সত্যতা পাই। গাছ কাটার সময় রাস্তার দুই পাশে বেশ কয়েকজন কৃষকের উঠতি ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট করা হয়েছে। রাস্তার কাজও নিম্নমানের হচ্ছে। আমি বিষয়টি তাৎক্ষনিক ইউএনও ও ওসিকে অবগত করি। উপজেলা প্রকৌশলী তাৎক্ষণিক এক নির্দেশে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় দুইটি পৃথক পৃথক অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজার রহমান মঞ্জু গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রাস্তার পাশে যাদের জমি তারাই গাছ কেটে নিয়ে গেছে। উল্টো এলাকাবাসী আমার শ্রমিককে মারধর করেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার বলেন, ঘটনাটি শোনা মাত্রই আমি সরে জমিনে পরিদর্শন করেছি। রাস্তার কাজ নিম্নমানের পাশাপাশি সরকারি গাছ কাটা ও পার্শবর্তী ভুট্টা ক্ষেতের ক্ষতি করার সত্যতা পেয়েছি। ইতিমধ্যেই পত্র দিয়ে উক্ত রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেয়ার পাশাপাশি বিষয়টি আমার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। উক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রাস্তার সরকারি গাছ কাটার দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। থানা পুলিশ ইতিমধ্যে সরেজমিন তদন্ত করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ গ্রহণের ব্যবস্থা চলছে।