সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: পিআইডি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে এবং এধরনের জঘন্য ঘটনায় কেউ যেন সম্পৃক্ত না হন সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, দেশবাসীর কাছে আমার এটাই আহ্বান থাকবে– এই ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ থেকে যেন সকলেই দূরে থাকে, এ ধরনের ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে কেউ যেন জড়িত না হয়। সেটাই আমার কাম্য। আজ বুধবার (২৪ এপ্রিল) রাতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ শহীদুজ্জামান সরকারের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ১ এর উত্তর প্রদানের আগে তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছিলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশেও আমরা দেখি বোমা হামলা এবং সন্ত্রাসী হামলা। যা আমরা কঠোর হস্তে দমন করেছি। তিনি বলেন, আমি দেশবাসীকে বলবো দেশবাসীকে সতর্ক থেকে কোথাও যদি এরকম অস্বাভাবিক কিছু তারা পায়, তাহলে তারা সঙ্গে সঙ্গে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেন জানায়।

এর আগে শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী নিহতের ঘটনা, ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকাণ্ড, বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ারম্যান সোহেল রানার মৃত্যু এবং নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলাসহ কতিপয় ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলায় ছোট্ট শিশু জায়ান চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে জায়ানের আহত বাবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, একটা ছোট বাচ্চা মাত্র আট বছর বয়স, আজকে সে আমাদের মাঝে নেই। তার বাবাও মৃত্যুশয্যায়, বাবাকে এখনও জানতে দেয়া হয়নি যে, জায়ান নেই। সে বারবার খুঁজছে। আর তার মা বা পরিবার কেমন সময় অতিবাহিত করছে তা আপনারা বুঝতেই পারছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বোমা হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। যারা ছোট্ট শিশু, নিষ্পাপ– তারা কেন এভাবে জীবন দেবে। তিনি বলেন, ঠিক এর কিছুদিন আগেই নিউজিল্যান্ডের একটি মসজিদে সরাসরি গুলি করে নারী, পুরুষ শিশুসহ অনেকগুলো মানুষকে হত্যা করা হলো। নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সে সময় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট টিম সেখানে ছিল, খুব অল্পের জন্য তাঁরা বেঁচে গিয়েছিলো। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কখনো মানুষের কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সোনাগাজিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা নুসরাত জাহান রাফির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, নুসরাতের সাথী যারা তার গায়ে কেরসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারলো। যে একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। এই ধরনের ঘটনাগুলো সমগ্র মানবজাতির জন্যই অকল্যাণকর। আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর কোথাও আর ঘটুক।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিবাদী তাদের কোনো ধর্ম নাই, দেশ কাল পাত্র নাই, জঙ্গি জঙ্গিই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং কখনো জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না– একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরা আমাদের পবিত্র ধর্মটাকেই সমগ্র মানবজাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল ইসলাম নয়, ‘সকল ধর্মেই শান্তির বাণী প্রচার করা হয়েছে। কিছু লোক ধর্মীয় উন্মাদনায় মানুষের প্রতি যে আঘাত আনে, জীবন কেড়ে নেয়, এটা মানব জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কষ্টকর।

‘রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও ভেজাল প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট জোরদার করা হবে’
সরকার দলীয় সংসদ শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আসন্ন রমজান মাসে তাঁর সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ভেজাল বিরোধী অভিযান চালাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আরো জোরদার করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে যেমন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি ভেজালের বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে,সেটা অব্যাহত থাকবে এবং রমজান মাসে আমরা যে মোবাইল কোর্ট বসাব, সেটা আরো বেশি করে ভেজালের বিষয়টাও দেখবে, সেটা আমি নিশ্চিত করতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, ভেজালের বিরুদ্ধে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি এবং এটা বলতে গেলে সারাবছর চলে। যেখানেই ভেজাল দ্রব্য দেখা যায় সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ সময় ২০০৯ সালে সরকার গঠনকালীন মূল্যস্ফীতি ডবল ডিজিট থেকে বর্তমানের ৫.৫ ভাগে নেমে আসার উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য তাঁর নির্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী, আমদানিকারক, পাইকারী ব্যবসায়ী, এফবিসিসিআইসহ সকল ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

এ সময় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আসন্ন রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যাক্ত করেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিত্য প্রয়োজনীয় প্রণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিনি, তেল, ছোলা, মশুর ডাল, খেজুর ও পেঁয়াজসহ সকল পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী পরিবহন স্বাভাবিক এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ প্রদানের পাশাপাশি শপিং মলসহ সকল বিপণী কেন্দ্রে পুলিশের দৃশ্যমান টহল জোরদারকরণ এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারকরণেরও নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় ছুটির দিনগুলোতে রাজধানীর নির্দিষ্ট স্থানে এবং রাজধানীর বাইরেও হকার্স মার্কেট চালু করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।