বাগেরহাটে বোরোর বাম্পার ফলন, ধান কাটার ধুম

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ধান কাটার ধুম। এবার বোরো মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার একর জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর ক্ষেতে যেমন রোগ-বালাই কম ছিলো। তেমনি ছিলো না কোনো পোকার উপদ্রব। তাই প্রতিটি ধানের তে যেন এক নয়নাভিরাম সোনালীর সমাহার। আর কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়া এ ফলন ঘরে তুলতে পারলে তা বিক্রি করে মিটবে তাদের ধার দেনা ও মুখে ফুটবে হাসি। সেই সঙ্গে উৎপাদিত ধানের নায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড হবে শক্তিশালী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এমনটাই জানিয়েছেন এ উপজেলার ধান চাষীরা।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে মোট ব্লকের সংখ্যা ২১টি। এরমধ্যে বড়বাড়িয়া ব্লকে এক হাজার ৬৫৫ একর, হাড়িয়ারঘোপ এক হাজার ১৮৫ একর, মাছুয়ারকুল এক হাজার ৮৭৭ একর, কলাতলা এক হাজার ৩৫৮ একর, রহমতপুর এক হাজার ২৯৬ একর, শৈলদাহ এক হাজার ৩০৯ একর, হিজলা এক হাজার ৩৪৬ একর, কুড়ালতলা এক হাজার ৩৩৩ একর, শান্তিপুর এক হাজার ১৯৭ একর, শিবপুর ৬৬৭ একর, বড়বাক ৬১৭ একর, চিতলমারী সদর দুই হাজার ৭৪ একর, শ্রীরামপুর তিন হাজার ৩১০ একর, রায়গ্রাম তিন হাজার ৮০৩ একর, চরবানিয়ারী ৭০৪ একর, খড়মখালী এক হাজার ৫০ একর, চরডাকাতিয়া ৫৫৫ একর, সন্তোষপুর ৭৯০ একর, দড়িউমাজুড়ি এক হাজার ২২২ একর ও কচুড়িয়া ব্লকে ৯৬৩ একরসহ মোট ২৯ হাজার ৮৯৭.১ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২৮ হাজার ৪৯১.৪৫ একর জমিতে হাইব্রিড, ৪৮১.৬৫ একর জমিতে উফশী ও ৯২৪ একর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান চাষাবাদ হয়েছে।

সুরশাইল গ্রামের কৃষক শুধাংশু মন্ডল, কুরমনির রেজাউল খান, বুদ্ধ বসু, কৃষ্ণ বিশ্বাস, উত্তম বসু, খিলিগাতির বাবলু মন্ডল, শ্রীরামপুরের তাপস ভক্ত, পাটরপাড়ার মুজিবর বিশ্বাস ও খড়মখালীর পরিমল মজুমদার কৃষক সাংবাদিকদের জানান, এ বছর চাষীরা সতঃর্স্ফুত ভাবে ধান চাষ করেছে। তাই চারিদিকে শুধু সোনালী সমাহার। তারা আরো জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকার আক্রমণ না হওয়ায় এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আর বহু কষ্টে উৎপাদিত ধানের নায্যমূল্য পেলে ঘুচবে ধার দেনা ও পাওনাদারদের তাড়া। মুখে ফুটবে হাসি। আর সেই সঙ্গে উৎপাদিত ধানের নায্যমূল্য পেলে এ অঞ্চলের কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড হবে শক্তিশালী।

তবে চিতলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার সাংবাদিকদের জানান, এ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার কৃষক পরিবার রয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২৫০ একর বেশী জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এ বছর ক্ষেতে যেমন রোগ-বালাই কম ছিলো। তেমনি ছিলো না কোনো পোকার উপদ্রব। তাই এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।