শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেয়র আতিকুলের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
রাজধানীর নর্দায় বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের প্রেক্ষাপটে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি পূরণের অগ্রগতি জানাতে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টায় উত্তর সিটির মেয়রের কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি)পাশাপাশি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া মেয়রের সঙ্গে আছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের সিইও, বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ সড়ক পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠকে সড়কে যানবাহনের ফিটনেস টেস্টে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নে বিআরটিএকে নিয়মনীতি মেনে চলা, ঢাকা মহানগরের পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে নিয়ে আসা, চালকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা, শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া, নগরে ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং নির্মাণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন নিয়ে সভায় আলোচনা করেন শিক্ষার্থীরা।

তাদের উদ্দেশে মেয়র আতিকুল বলেন, ‘তোমাদের দাবি-দাওয়ার সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে এসব দাবি পূরণ সময়ের ব্যাপার। আমাদের আরো সময় দিতে হবে। আমরা সব দাবি দাওয়াই ধীরে ধীরে পূরণ করবো। আমাদের দেখতে হবে কোথায় দ্রুত কাজ করতে হবে। আর কিছু ক্ষেত্রে তো লংটার্ম চিকিৎসা দিতে হবে। পারসেপশন বুঝতে হবে আমাদের।’

শিক্ষার্থীদের মতো সাধারণ জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক জঞ্জাল সরাতে হবে নিরাপদ সড়ক পেতে গেলে। লেটস মুভ টুগেদার।’

মালিবাগ রেলগেইট থেকে প্রগতি সরণির কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়ককে ‘মডেল রোড’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানান মেয়র।

তিনি বলেন, ‘বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই সড়ক নিরাপদ করতে তাদের পরামর্শ দেবে। তারপর এই সড়কে কোথায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে, তা ঠিক করা হবে।’

ঢাকার সড়কে যত্রতত্র বাস থামালে দণ্ডের বিধান করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। বাসগুলো যদি এই যাত্রী ছাউনিতে গিয়ে না দাঁড়ায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চালকদের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে বিআরটিএর নানা দুর্নীতি নিয়ে সভায় তোপের মুখে পড়েন এই বিভাগের কর্মকর্তারা।

তাদের সতর্ক করে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘জবাবদিহি নিশ্চিৎ করতে হবে। পুরো সিস্টেমটাকে ইমিডিয়েটলি একটা অটোমেশনের মধ্যে আনতে হবে। হালকা যানবাহনের লাইসেন্স নিয়ে কেউ যেন ভারী যানবাহন চালানোর অনুমতি না পায়। সেই সঙ্গে ভারী যানবাহনের লাইসেন্স পেতে যে জটিলতা আছে, তাও নিরসন করতে হবে।’

সভায় বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিরাও এসেছিলেন। মেয়র মালিকপক্ষকে চুক্তিভিত্তিক চালক নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার অনুরোধ জানান।

নিরাপদ সড়কের দাবিগুলো নিয়ে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে মে মাসের শুরুতে আবারো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, ট্রাফিক উত্তরের ডিসি প্রবীর কুমার রায়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ পরিচালক নিয়াজ আহমেদও এসেছিলেন।

গত ১৯ মার্চ প্রগতি সরণির নর্দা এলাকায় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাপায় বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নতুন করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ওই দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বিইউপির শিক্ষার্থীরা। পরদিন সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নিরাপদ সড়কের দাবিতে সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভে যোগ দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আবরারের মৃত্যুকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে মেয়র আতিকুল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। পরে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মেয়রের সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করে। পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াও সেই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক শেষে বিউইপির আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি ফয়সাল এনায়েত সেদিন ব্রিফিংয়ে বলেন, আবরার নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেয়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফুটব্রিজ, স্পিডব্রেকার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এক মাসের মধ্যে তার দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধন এবং সুপ্রভাত পরিবহনকে আর কখনো রুট পারমিট না দেয়ার দাবি পূরণ করার প্রতিশ্রুতি তারা মেয়রের কাছ থেকে পেয়েছেন। এর ভিত্তিতে তারা অগ্রগতি দেখার জন্য সাত দিন সময় দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করছেন।

সে অনুযায়ী ২৮ মার্চ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেয়রের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বৈঠক পিছিয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছেন মেয়র।