সাংসদ মুক্তি এলাকা না ছাড়ালে কালিয়ায় ভোট বন্ধ

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংসদ বি এম কবিরুল হক মুক্তি শনিবারের আগে এলাকা না ছাড়লে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে কালিয়ায় পুনর্নির্বাচন করতে হলে তার ব্যয় সংসদ সদস্য মুক্তিকে বহন করতে হবে।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রোববার নড়াইলের কালিয়াসহ ১১৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে। তার আগের দিন নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মুক্তিকে এমন কড়া নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান।

তিনি বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ করায় এর আগে সংসদ সদস্য মুক্তিকে সতর্ক করা হয়েছিলো। এরপরও তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই শনিবারও যদি তিনি এলাকায় অবস্থান করছে বলে তথ্য পাওয়া গেলে ভোট বন্ধ করে দেয়া হবে এবং পরবর্তীকে ভোটের ব্যয়ভার তাকেই বহন করতে হবে।’

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে বলে জানান ইসির যুগ্ম সচিব।

উপজেলা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৪ জন সংসদ সদস্যকে এলাকা ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে ইসি। এরমধ্যে দুজনকে ভোট বন্ধ করে দেয়ার হুমকি ও মন্ত্রীর একজন এপিএসের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশনা দেয়া হয়।

শুধু নোটিশ দিয়ে দায় সারার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ইসির যুগ্মসচিব ফরহাদ বলেন, ‘যেখানে নির্দেশনা উপক্ষো করা হচ্ছে সেখানে ভোট বন্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও নিচ্ছে ইসি।’

নড়াইল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ বলেন, ‘একবার সতর্ক করার পরেও শনিবার প্রথম প্রহর পর্যন্ত নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কালিয়া পৌরসভায় দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করার গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে ইসি। চূড়ান্ত সতর্ক করার পর এখন কোথায় আছেন তিনি জানি না। আমরা নজর রাখছি।’

মুক্তিকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, ‘যেহেতু আপনি বিধিবহির্ভূতভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন, তাই আপনাকে নড়াইল-১ (কালিয়া) নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করার জন্যে ইসি নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কারণে নির্বাচন বন্ধ হলে এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পরিচালনার জন্যে ইসি তথা সরকারের যে আর্থিক ব্যয় হবে পরবর্তীতে তার দায় দায়িত্ব নিরূপণ করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এটা অপপ্রচার। আমি তো এখন এলাকা ছাড়া। কালিয়া ছাড়ার জন্যে নোটিশ পাওয়ার পরই আমি রাত ১২টার পরে চলে আসি। এলাকার বাইরে থাকায় ভোট বন্ধ করার তো দরকার পড়ছে না।’

এখন খুলনায় অবস্থান করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র করে’ অভিযোগ এনেছে। কারও পক্ষে প্রচারণা চালাননি তিনি। তার কাছেই প্রার্থীরা চলে আসেন।