বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারি কল্যাণ তহবিলের ১৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ

*সিবিএ নেতাদের তত্ত্বাবধানে তহবিলের ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়

*আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে: সিবিএ সহসভাপতি আকতারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কতিপয় সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে কর্মচারি কল্যাণ তহবিলের ১৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের নিচতলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের বৈদেশিক বাণিজ্যিক শাখায় ‘বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারি কল্যাণ তহবিল’ নামে খোলা হিসাব থেকে কয়েকজন নেতা পরস্পর যোগসাজশে এই টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৫ লক্ষাধিক টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত ছিল। বাকি টাকা বিভিন্ন সময়ে জমার পর উত্তোলন করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কর্মচারি কল্যাণ তহবিলের আহ্বায়ক মো. আকতার হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ নাজমুল কবির মজুমদারের যৌথ স্বাক্ষরে গত নভেম্বরে এই টাকা উত্তোলন করা হয়।

তবে আকতার হোসেনের দাবি, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের চেকে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তাঁর স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আকতার হোসেন বিআইডব্লিউটিএর কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্টের দায়িত্ব পালনকারী ‘বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন (বি-২১৭৬)’ এর সহ-সভাপতি। আর নাজমুল কবির মজুমদার একই সংগঠনের অর্থ সম্পাদক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতারা ঢাকাসহ সারা দেশের সাধারণ কর্মচারিদের মাসিক বেতন থেকে কর্তনকৃত টাকা একত্রিত করে ঢাকায় সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠান; যা দিয়ে এই তহবিল গঠিত হয়েছে। তহবিলের টাকা রাখা হয় বিআইডব্লিউটিএ ভবনে এসআইবিএলের মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য শাখায়।

বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারি কল্যাণ তহবিল সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কয়েকজন সিবিএ নেতার সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হয়; যার আহ্বায়ক হলেন যথাক্রমে সিবিএর সহ-সভাপতি আকতার হোসেন। এছাড়া সিবিএর দপ্তর সম্পাদক তুষার কান্তি বণিক ও অর্থ সম্পাদক নাজমুল কবির মজুমদার পদাধিকার বলে এই কমিটির যথাক্রমে সদস্যসচিব ও কোষাধ্যক্ষ।

হিসাব খোলার সময় ব্যাংকে দেয়া সংগঠনের রেজুলেশন অনুযায়ী, কোষাধ্যক্ষসহ আহ্বায়ক অথবা সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে এই হিসাব পরিচালিত হবে। তবে তুষার কান্তি বণিককে চট্টগ্রামে বদলি করায় তিনি দীর্ঘদিন যাবত সিবিএ কার্যক্রম কিংবা কল্যাণ তহবিল পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত নেই।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব চেকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে তাতে আহ্বায়ক (সিবিএ সহ-সভাপতি) আকতার হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ (সিবিএর অর্থসম্পাদক) নাজমুল কবির মজুমদারের স্বাক্ষর রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে এই টাকা তোলা হয়েছে।

জানতে চাইলে তহবিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আকতার হোসেন বলেন, “আমি টাকা তোলার বিষয়ে কিছুই জানি না। কোনো চেকেও স্বাক্ষর করিনি। আজ (মঙ্গলবার) ব্যাংক থেকে আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর ব্যাংকে গিয়ে দেখি আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।”

আকতার হোসেন আরো বলেন, ব্যাংকে দরখাস্ত করে আমার মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংক থেকে আমাকে ফোন দেয়া হলেও আমি তা জানতে পারিনি।

আপনি তহবিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, আপনার কর্মস্থল সিবিএ কার্যালয় ও ব্যাংক একই ভবনের একই ফ্লোরে। তাহলে আপনি প্রতিমাসে তহবিলের খোঁজখবর নিলেন না কেনো, এমন প্রশ্নের জবাবে আকতার হোসেন বলেন, “ফিক্সড ডিপোজিট ‘মেচিউরড’ না হওয়ার কারণে খোঁজ নেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কোষাধ্যক্ষ নাজমুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বিকাল থেকে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।