সাধারণ শিক্ষার্থীরা না চাইলে ভিপির দায়িত্ব নেবো না: নূর

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের দাবিতে চলমান আন্দোলনে একাত্মতা জানানো নতুন ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্নে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনভাব বোঝার চেষ্টা করছি। তারা যদি চায় যে আমি ভিপি হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করি, তাহলে আমি সেটা করবো। তারা যদি না চায় তাহলে আমি দয়িত্ব গ্রহণ করবো না।’

বাংলাদেশে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা নূরল হক আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের প্যানেলের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি রোকেয়া হলের ফটকে গিয়ে সেখানে অনশনরত পাঁচ শিক্ষার্থীর দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।

লাইব্রেরির সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে নূর বলেন, ‘আমার একটি সংগঠন রয়েছে। তারা আমার সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছে, শ্রম দিয়েছে, সময় দিয়েছে। নির্বাচনে এতো কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদের মোটিভ কী, তারা কী চাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। তারা যদি চায় যে আমি ভিপি হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করি, তাহলে আমি সেটা করবো। তারা যদি না চায় তাহলে আমি দয়িত্ব গ্রহণ করবো না।’

গত ১১ মার্চের নির্বাচনে থাকা অধিকাংশ প্যানেল ভোট বাতিল করে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে। নবনির্বাচিত ভিপি নূরও সেই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আর নতুন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শনিবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো। তবে সেই দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের দায়িত্বগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।

নতুন করে ভোটের দাবিতে মঙ্গলবার রাত থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ডাকসু হল সংসদের কয়েকজন প্রার্থীও আছেন।

আর রোকেয়া হল সংসদের পুননির্বাচন এবং প্রভোস্টের অপসারণের দাবিতে বুধবার রাত থেকে হলের ফটকে অনশনে বসেছেন পাঁচ শিক্ষার্থী।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নূর বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার/পাঁচ জন শিক্ষার্থীও যদি অনশন করে তার একটা গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। গান্ধী একজন ছিলেন, বঙ্গবন্ধু একজন ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা কিন্তু প্রথমে একাই লড়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ করছে আমি নৈতিকভাবে তার প্রতি সমর্থন দিয়েছি, এখনো দিচ্ছি।’

রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ দাবি করে ভিপি নূর বলেন, ‘তিনি আমাকে এবং ছাত্রীদেরকে দেখে নেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে করে তিনি আর ওই পদে থাকতে পারেন না। তার অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত।
আমি আমার বোনদের সঙ্গে একমত হয়ে ভিসি মহোদয়কে বলেছি যে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ম্যামের বিরুদ্ধে যেহেতু অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, তাই উনাকে পদত্যাগ করতে হবে। যেমনি ভাবে কুয়েত-মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আসার পর তাকে সরে যেতে হয়েছিলো।’

গত ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদের ভোট শুরুর আগেই বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভর্তি ব্যালট পেপার পাওয়া যায়, যেগুলোতে ভোটের চিহ্ন দেয়া ছিলো। ছাত্রীদের বিক্ষোভের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষকে সরিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, গঠন করা হয় ‘তথ্যানুসন্ধান কমিটি’। এই পরিস্থিতিতে ওই হলে ভোট তিন ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।

আর দুপুরে রোকেয়া হলে ভোটগ্রহণ কক্ষের পেছনে আরেকটি কক্ষে ব্যালট পেপার বোঝাই ট্রাংক পাওয়া গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কারচুপির অভিযোগ এনে তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কারচুপির জন্যই ওই ট্রাংকে ব্যালট সরিয়ে রাখা হয়েছিলো। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, ওইসব ব্যালটে কোনো চিহ্ন দেয়া ছিলো না, কারচুপির কোনো ঘটনাও সেখানে ঘটেনি। রমনা হলের ওই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে শাহবাগ থানায়, যেখানে নূরসহ নির্বাচনের সাত প্রার্থীকে আসামি করা হয়েছে।

নির্বাচনে কারচুপি হয়ে থাকলে তা ভিপি পদে নূরের জয়কেও প্রশ্নবিদ্ধ করে কিনা- সেই প্রশ্ন সাংবাদিকরা তার কাছে রেখেছিলেন।

জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতি ও কারচুপি মোকাবেলা করেই তিনি ছাত্রদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন বলে মনে করেন। যেভাবে নির্বাচন শুরু করা হয়েছিলো সেটা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া। সেই কারণেই আজকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আমরা শুরু থেকেই এ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম।’