মানুষ এখন ব্যাংকে আসতে ভয় পায়: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘অনাকাঙ্খিত হলেও সত্য যে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা বিপদে আছে। এক সময় ব্যাংক ছিলো সবার প্রিয় জায়গা, আর মানুষ এখন ব্যাংকে আসতে ভয় পায়।’

আজ বৃহস্পতিবার অগ্রণী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিরি এসব কথা বলেন। ব্যাংক খাতের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন বলেও এ সময় উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকে তাকে বলেছেন এ মন্ত্রণালয় চালানো অনেক কঠিন। তবে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। এখানে এসেছেন বিখ্যাত ব্যাংকিং খাত গড়ে তুলতে। আর এজন্য খেলাপি ঋণ আর বাড়তে দেয়া যাবে না। খেলাপি ঋণ না বাড়লে এমনিতেই সুদহার এক অঙ্কের অনেক নিচে নেমে আসবে। তখন আর সুদহার নিয়ে কথা বলতে হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকগুলোকে স্বল্প মেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দেয়ার এ ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটা চলতে পারে না। এরকম হলে মানুষ কীভাবে টাকা ফেরত দেবে। আর এজন্য বন্ড মার্কেট বিকশিত করা হবে। বন্ড মার্কেট থেকে দীর্ঘ মেয়াদে টাকা তোলা গেলে আর সমস্যা থাকবে না।’

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশে একটা অদ্ভুত প্রথা চলে আসছে। যারা কর দেন তারা শুধু দিয়েই যাচ্ছেন। এটা হতে পারে না। এসব বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে কর কমানো হবে। করের অনেকগুলো স্তরের মাধ্যমে যারা বেশি কর দেন তাদের হার কমানো হবে। আর যারা একেবারে কর দেন না তাদের আওতায় আনা হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থায়ী কোনো সমাধান না। প্রত্যেক পরিবার থেকে অন্তত একজনকে কর্মের সন্ধান দেয়া হবে। সেটা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়ে কিংবা, মুদি দোকান বা অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করে করা হবে। বেকার সমস্যা থেকে মানুষকে মুক্ত করার লক্ষ্যেই এটা করা হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের ৯৫ শতাংশই মন্দামানে শ্রেণিকৃত। এসব ঋণ আদায় জোরদার করতে হবে। এ জন্য শুধু মামলার ওপর ভরসা না করে বিকল্প উপায়ে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করতে হবে।’

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা উচ্চ আদালতে রিট নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা। এজন্য আলাদা বেঞ্চ গঠন এবং রিটের সঙ্গে ডাউন পেমেন্টের শর্ত জুড়ে দেয়া গেলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে। ব্যাংক খাত এখন স্বল্প সুদে আমানত নিয়ে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে বিতরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংকুলান করার চ্যালেঞ্জে পড়েছে। অগ্রণী ব্যাংক তার ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এক্ষেত্রে উন্নয়নের চেষ্টা করছে। আদায় বৃদ্ধি এবং যাচাই-বাছাই করে নতুন ঋণ বিতরণের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশ থেকে ১৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।’

ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘এক বছরে ব্যাংকটির আমানত ১৮ শতাংশ বেড়ে ৬২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা হয়েছে। ঋণে ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়ে ৩৯ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা হয়েছে। রফতানিতে ১৭ শতাংশ এবং রেমিট্যান্সে ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে করে গতবছর ব্যাংকটি ৯৫৭ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে।’

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সম্মেলনে ব্যাংকের বিভিন্ন সূচক তুলে ধরা হয়। এবার অগ্রণী ব্যাংক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালসহ মোট ১৬ জনকে সম্মাননা দেয়ার জন্য মনোনীত করে। বৃহস্পতিবারের সম্মেলনে এ সম্মাননা দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পরবর্তী সময়ে সম্মাননা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়। বাকিদের অধিকাংশ নিজ বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে সম্মাননা গ্রহণ করেন।

গুণী গ্রাহক সম্মাননা পেলেন যারা: সম্মেলন থেকে গুণী গ্রাহক হিসেবে মনোনীতদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন। সম্মাননা পাওয়ার তালিকায় আরো আছেন- পিএইচপি গ্রুপের সুফি মিজানুর রহমান, ইস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, এ্যাপেক্স গ্রুপের মনজুর এলাহী, সিটি গ্রুপের ফজলুর রহমান, নিটল নিলয় গ্রুপের আবদুল মাতলুব আহমাদ, নর্থইস্ট পাওয়ারের খুরশিদ আলম, নোমান গ্রুপের নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের আইয়ুব হোসেন, বিএসআরএমের আলী হোসেন, প্রাইম গ্রুপের আব্দুল আউয়াল, এসএমই উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার বেগম ও সাধারণ গ্রাহক মোহাম্মদ শাহজাহান।