বিআইডব্লিউটিএ: সিবিএ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত

সুপ্রিম কোর্ট ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজবিডি.কম
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সিবিএর দায়িত্ব পালনকারী সংগঠন বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিলের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের ওপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর দ্বৈত বেঞ্চ বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নকে (নিবন্ধন নং বি-২১৭৬) অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। আদালত তাঁর রায়ে সংগঠনটির নিবন্ধন ৩০ দিনের মধ্যে বাতিলের জন্য শ্রম অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন। ওই সংগঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিআইডব্লিউটিএর কর্মচারি মুজিবর রহমানের দায়ের করা এক রিটের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেছিলেন।

রায় ঘোষণার পর রিটকারীর আইনজীবী মন্টু চন্দ্র ঘোষ জানিয়েছিলেন, উচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে বিআইডব্লিউটিএর কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্টের (সিবিএ) কার্যক্রম পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এছাড়া সংগঠনটির এ যাবতকালের সকল কার্যক্রম অবৈধ বিবেচিত হবে।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মন্টু চন্দ্র ঘোষ। বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের (মূল বিবাদী) পক্ষে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক ও এডভোকেট মাহবুবুর রহমান।

পরেরদিন ১২ মার্চ হাইকোর্টের এ রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতির আদালতে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) সিবিএ সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠান। আজ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটকারি মুজিবর রহমানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কামরুল হক সিদ্দিকী। তাঁকে সহায়তা করেন এডভোকেট মন্টু চন্দ্র ঘোষ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রম অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন পায় বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়ন; যার নম্বর বি-২১৭৬ এবং একই বছরের জুনে সিবিএর স্বীকৃতি পায় সংগঠনটি। তবে এই সংগঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের মেডিকেল এ্যাটেন্ডেন্ট এবং বিআইডব্লিউটিএ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (নিবন্ধন নং বি-১৪৪০) সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবর রহমান।

রিটে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স এবং বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের (অবৈধ ঘোষিত) সাধারণ সম্পাদককে বিবাদী করা হয়।

রিটকারির আবেদনে বলা হয়, শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থায় তিনটির বেশি ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন পেতে পারে না। বিআইডব্লিউটিএ-তে এর আগে তিনের অধিক ট্রেড ইউনিয়নকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। শ্রম অধিদপ্তর এই তথ্য গোপন রেখে সর্বশেষ বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নকে নিবন্ধন দিয়েছে; যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অবৈধ।

মামলাটি কয়েকটি বেঞ্চ ঘুরে সর্বশেষ বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর দ্বৈত বেঞ্চে আসে। আদালত দীর্ঘদিন ধরে উভয়পক্ষের শুনানি গ্রহণ করে গত ১১ মার্চ রায় ঘোষণা করেন।