সমুদ্রগামী নৌবাণিজ্য প্রসারে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন: আশীষ কুমার দে

আশীষ কুমার দে

বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে সমুদ্রগামী নৌবাণিজ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে। তাই জাতীয় অর্থনীতিতে নৌখাত বিশেষ ভূমিকা রাখে। অনেক দেশের সমুদ্রবন্দরগুলো সেখানকার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস; বাংলাদেশ তাদের একটি। তবে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্দরগুলোর সক্ষমতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি এসব পণ্য পরিবহনের জন্য বন্দরগুলোর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের নিরবিচ্ছিন্ন নৌ যোগাযোগও অপরিহার্য। সমুদ্রগামী নৌ চলাচল ব্যবস্থা ‘মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিন্যান্স (এমএসও)-১৯৮৩’ এর অধীনে পরিচালিত হয়। আর ‘বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ ভেসেলস (প্রোটেকশন) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’ এর অধীনে পরিচালিত হয় সমুদ্রগামী নৌবাণিজ্য।

আমেরিকান বহুজাতিক অর্থলগ্নীকারী ব্যংক ও অর্থব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান GLODMAN SACHS এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, একবিংশ শতাব্দীর ১১টি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির একটি বাংলাদেশ। ভারত মহাসাগর অঞ্চল পৃথিবীর স্থলভাগের ২৫ শতাংশ, তেল ও গ্যাস রিজার্ভের ৪০ শতাংশ এবং জনশক্তিতে এক তৃতীয়াংশ। জনসংখ্যা আধিক্যের কারণে বাংলাদেশ দেশি ও বিদেশি পণ্যের একটি বড় বাজার। তাই আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে নৌ শিল্প অন্যতম ও অনস্বীকার্য। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৪ সালে সমুদ্রগামী নৌ বাণিজ্যকে ‘শিল্প’ হিসাবে ঘোষণা দেয়। তবে বাংলাদেশে নৌ স্থাপনা অত্যন্ত অপার্যপ্ত, সেই সঙ্গে রয়েছে মারাত্মক প্রশাসনিক দুর্বলতা। ফলে বাংলাদেশি জাহাজ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

জাহাজ স্বল্পতা: বর্তমানে বাংলাদেশ পতাকাবাহী (বাংলাদেশি) জাহাজের সংখ্যা ৪২। এর মধ্যে ব্যক্তি বা প্রাইভেট কোম্পানির মালিকানাধীন ৩৮টি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ৪টি। অথচ ২০১৩ সালে সরকারি ও প্রাইভেট মিলিয়ে এ সংখ্যা ছিল ৭২। অন্যদিকে, আশির দশকের শেষদিকে বিএসসির বহরেই ৩২টি জাহাজ ছিল (সূত্র: জেনারেল শিপিং স্ট্যাটিস্টিকস, নৌ পরিবহন অধিদপ্তর)। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, এ দুটি বন্দর থেকে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাবদ বার্ষিক জাহাজ ভাড়ার পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৩ সালে ৭২টি বাংলাদেশি জাহাজ পায় এই ভাড়ার ২ দশমিক ৪ শতাংশ বা ১ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। তবে পাঁচ বছরে জাহাজের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসায় ২০১৮ সালে ৩৮টি জাহাজ পেয়েছে শূন্য দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার; যা মোট ভাড়ার ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ বছরে ৫৮ বিলিয়নেরও বেশি ডলার বিদেশি জাহাজগুলো নিয়ে যাচ্ছে।

United Nations Conference on Trade and Develpoment (UNCTAD) এর নীতি অনুযায়ী, একটি দেশের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ৪০ শতাংশ দেশীয় জাহাজ দ্বারা বহন করার অধিকার রয়েছে, ৪০ শতাংশ বিদেশী জাহাজ দ্বারা, অবশিষ্ট ২০ শতাংশ উভয়ের জন্যই খোলা। শুধুমাত্র ৪০ শতাংশ পণ্য বহনের জন্য আমাদের ১,১০০টি সমুদ্রগামী জাহাজ দরকার। কিন্তু বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি তো দূরের কথা, গত পাঁচ বছরে দ্রুত কমেছে; যা সমুদ্রগামী নৌ বাণিজ্য ও বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিবহন ভাড়া বাবদ একদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে; অন্যদিকে অধিকসংখ্যক স্থানীয় দক্ষ ক্রু ও নাবিকদের কর্মসংস্থান হবে। যদিও এ খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না এবং এখনও নেই। তা সত্ত্বেও গত ১০ বছরে সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, ইন্দোনেশিয়ায় ২০০৫ সালে দেশীয় পতাকাবাহী জাহাজ কর্তৃক ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ কর্তৃক ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ পণ্য পরিবাহিত হয়। পরবর্তীতে দেশটি জাহাজমালিকদের সুরক্ষা, প্রণোদনা ও প্রশাসনিক নানা সুবিধা দেয়ায় ইন্দোনেশীয় পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ২০১২ সালে ৯৮ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য নিজেদের জাহাজেই বহন করে। এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র বাংলাদেশে।

আমাদের দেশীয় জাহাজ কমে যাওয়ার নানা কারণ রয়েছে। সেগুলোর প্রধান কয়েকটি হলো : ১. প্রত্যক্ষ প্রশাসনিক জটিলতা তথা জাহাজ নিবন্ধনে দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া ২. Bangladesh Flag Vessels (Protection) Ordinance, ১৯৮২ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া ৩. উচ্চহারে ব্যাংকঋণ ৪. পরিবহন ভাড়ার ওপর ৩% হারে উৎসে কর কর্তন ৫. আর্ন্তজাতিক নৌ বাণিজ্যে বিরাজমান মন্দাভাব এবং ৬. বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধার অভাব। তবে এসবের মধ্যে ১ নং কারণটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

জাহাজ নিবন্ধনে জটিলতা : নৌ চলাচল ব্যবস্থা নিরাপদ ও বাধাহীন না হলে নৌ বাণিজ্য ব্যাহত হয়। তাই নৌ বাণিজ্য প্রসারে সর্বপ্রথম দরকার নৌ চলাচল ব্যবস্থা সহজীকরণ ও আধুনিকায়ন। এ লেখার শুরুতেই বলা হয়েছে, সমুদ্রগামী নৌ চলাচল ব্যবস্থা পরিচালিত হয় ‘মার্চেন্ট শিপিং অর্ডিন্যান্স (এমএসও)-১৯৮৩’ এর অধীনে। এই আইন প্রয়োগের কর্তৃত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা নৌ পরিবহন অধিদপ্তর (Department of Shipping- DoS) এবং এর অঙ্গ সংস্থা নৌ বাণিজ্য দপ্তরের (Marcentile Marine Office- MMO). তবে তুলনামূলক নৌ বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব অনেক বেশি হলেও সংস্থাটি কার্যত নখ-দন্তবিহীন ব্যাঘ্রের মতো। তীব্র জনবল সংকট, নিজস্ব প্রশাসনিক দুর্বলতা ও নৌ মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শীতার কারণে সংস্থাটিকে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

নৌ বাণিজ্য দপ্তরের কার্যক্রম সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রীক হওয়ায় এর প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে; যার অধীনে খুলনায় আরেকটি দপ্তর রয়েছে। এই সংস্থার প্রধান কাজ সমুদ্রগামী ও উপকূলীয় জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের নিবন্ধন প্রদান, বার্ষিক সার্ভে (ফিটনেস পরীক্ষা), ডকইয়ার্ডে নতুন জাহাজ নির্মাণ ও পুরানা জাহাজ মেরামত কাজ পরিদর্শন এবং তদারকি। এছাড়া চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে প্রবেশ কিংবা বন্দর ত্যাগের আগে জাহাজগুলো পরীক্ষা করে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়াও এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রসঙ্গত, এই ‘এনওসি’ ছাড়া কোনো জাহাজের বন্দরে প্রবেশ কিংবা বন্দর ত্যাগের বিধান নেই। বর্তমানে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত নৌযানের সংখ্যা ৩,৭৫৫। এর মধ্যে সমুদ্রগামী জাহাজ ৪২, কোস্টাল জাহাজ ও অয়েলট্যাংকার (তেলবাহী জাহাজ) ৩৫, ফিশিং ট্রলার ১৭০, ফিশিং বোট ও কার্গোজাহাজ ৩,৫০০ এবং যাত্রীবাহী জাহাজ (সী-ট্রাক) আটটি। (সূত্র: জেনারেল শিপিং স্ট্যাটিস্টিকস, নৌ পরিবহন অধিদপ্তর)।

এর বিপরীতে সংস্থার অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) অনুযায়ী, প্রধান কার্যালয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ার এ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার’ ও ‘নটিক্যাল সার্ভেয়ার’ এর একটি করে পদ রয়েছে। খুলনা কার্যালয়েও পৃথক এ দুটি পদে দু’জন নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে দুটি পদে দু’জন স্থায়ী কর্মকর্তা থাকলেও খুলনা কার্যালয়ের পদ দুটি শূন্য রয়েছে দীর্ঘ ১০ বছর। অর্থাৎ মাত্র দু’জন বিশেষজ্ঞর ওপর বিপুলসংখ্যক নৌযান সার্ভে এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে আসা জাহাজগুলোর এনওসি দেয়ার দায়িত্ব অর্পিত।

এদিকে তীব্র জনবল সংকটের কারণে নৌ বাণিজ্য দপ্তরের স্বাভাবিক কাজকর্ম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি এই সুযোগে সেখানে স্বাভাবিকভাবে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনাও বাসা বেধেছে। এতে নৌযান সার্ভে করাতে মালিকরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছেন, নতুন নৌযানের নিবন্ধন পেতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এতে একদিকে যথাযথভাবে সার্ভে বা ফিটনেস পরীক্ষা না হওয়ায় নৌ দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে, অন্যদিকে নিবন্ধন পেতে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ গচ্চার কারণে মালিকেরা নতুন জাহাজ ক্রয় কিংবা তৈরিতে আাগ্রহ হারাচ্ছেন। নৌ বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য মতে, নিবন্ধিত ৩,৭৫৫টি নৌযান সার্ভের জন্য বর্তমানে চট্টগ্রাম কার্যালয়ে (দুটি কার্যালয় মিলে) মাত্র দু’জন কর্মকর্তা থাকলেও পাঁচ বছর আগে ছিলেন মাত্র একজন।

যে কারণে দায়িত্ব পালনের স্বার্থে ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের (এনএমআই) এক কর্মকর্তাকে সেখানে খণ্ডকাালীন ‘ইঞ্জিনিয়ার এ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার’ হিসেবে সংযুক্তিতে পদায়ন দিয়েছিল নৌ মন্ত্রণালয়; যদিও সংযুক্তিতে খন্ডকালীন শিপ সার্ভেয়ার হিসেবে পদায়নের কোনো বিধান নেই। এছাড়া ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে একজন ‘ইঞ্জিনিয়ার এ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ার’ নিয়োগ দেয়া হলেও এনএমআই কর্মকর্তাকে অজ্ঞাত কারণে খণ্ডকালীন শিপ সার্ভেয়ারের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়নি। অথচ অর্গানোগ্রামে এই পদ মাত্র একটি; যা পিএসসির মাধ্যমে ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে।

মংলা বন্দরে আসা জাহাজগুলোর এনওসি দেয়ার জন্য নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের একজন নটিক্যাল সার্ভেয়ার ২০০৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত খুলনায় নৌ বাণিজ্য দপ্তরে দায়িত্বরত ছিলেন। নৌ মন্ত্রণালয় তাঁকে ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ারের (সিএনএস) চলতি দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকে খুলনা কার্যালয়ে এ পদটি শূন্য। মংলা বন্দরের জাহাজগুলোকে এনওসি দেয়ার জন্য চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একমাত্র নটিক্যাল সার্ভেয়ারকে খুলনা কার্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজগুলোর এনওসি দিতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মংলা বন্দরে জাহাজের আগমন বাড়ছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিদেশি জাহাজ এসেছিল ২৮২টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৬২৩। আর গত অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৭৮৪টি জাহাজ আসে বন্দরে। (সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, তারিখ : ২১.০১.২০১৯)। তাই চট্টগ্রামের একজন কর্মকর্তার পক্ষে নিয়মিত খুলনা কার্যালয় ও মংলা বন্দরে যাতায়াত এবং জাহাজগুলো পরীক্ষা করে এনওসি দেয়া আদৌ সম্ভব কিনা, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন রয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ পতাকাবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা দরকার। তবে সর্বাগ্রে দরকার নৌ বাণিজ্য দপ্তরকে গতিশীল এবং অনিয়ম-অব্যবস্থাপনামুক্ত করা। এজন্য সংস্থাটির জনবল কাঠমো সংশোধন করে কর্মকর্তা-কর্মচারির সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেমন জরুরি, তেমনি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সৃজিত পদগুলোতে নিয়োগ দেয়াও আবশ্যক। তাহলেই সমুদ্রগামী নৌ চলাচল ও নৌ বাণিজ্য প্রসারিত হবে এবং প্রশস্ত হবে বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের পথ।

আশীষ কুমার দে: সম্পাদক, পিটিবিনিউজ.কম। সাধারণ সম্পাদক: নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি।