‘রোহিঙ্গা বাড়তি চাপে দেশে খাদ্য সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই’

ফাইল ছবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
মিয়ানমারের নাগরিক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বাড়তি চাপে দেশে আপাতত খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আজ মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়তি চাপে দেশে আপাতত খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে খাদ্য অধিদপ্তর ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মধ্যে সম্পাদিত ‘এমওইউ’র’ মাধ্যমে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ধারে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরকারি দলের নিজাম উদ্দিন হাজারির অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকার দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রাখতে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকিসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (নেত্রকোনা-৫) প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৩১৭ টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪২ টন, গম ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৬ টন ও ধানের পরিমাণ এক হাজার ৩৪৯ টন। তিনি আরো জানান, দেশে মোট খাদ্য গুদামের সংখ্যা দুই হাজার ৭২২টি এবং গম সংরক্ষণের জন্য সাইলো রয়েছে সাতটি। এসব খাদ্য গুদামের ধারণক্ষমতা ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮২২ টন।

সরকারি দলের সদস্য এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষে গত ১০ বছরে সরকার সফলতা অর্জন করেছে। খাদ্য শস্যের বাজার দরের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ীমূল্যে ওএমএস (খোলাবাজারে সরকারের বিক্রি) কর্মসূচিতে চাল ও আটা বিতরণ চালু করা হয়। ওএমএসের মাধ্যমে গত ১০ বছরে গড়ে প্রতি বছর প্রায় ২২৪ দশমিক ৩৩ হাজার টন খাদ্য শষ্য বিতরণ করা হয়, যা চালের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, নো-প্রোভার্টি ও জিরো হাঙ্গারকে ফোকাস করে কর্মহীন পাঁচ মাস সময়ে পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনগণকে ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া সুপরিকল্পিতভাবে খাদ্যশস্য বিতরণ ও বাজার মনিটিরিংয়ের ফলে খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে।