ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত তিন

ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় বিজিবি সদস্যসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বহরমপুর এলাকায় বেতনা সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হরিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) আমিরুজ্জামান।

নিহতরা হলেন- ওই উপজেলার রুহিয়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব (৩৫), মৃত জহিরউদ্দীন ছেলে সাদেক (৪৫), বহরমপুর এলাকার নূর ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২)।

ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ যাওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা সেখান থেকে চলে যায়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাবাসী মরদেহ ঘিরে বিক্ষোভ করছে এবং ঘটনার জন্য দায়ী বিজিবি সদস্যদের শাস্তি দাবি করছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহরমপুর গ্রামের এক ব্যক্তি সকালে গরু নিয়ে যাদুরানী বাজারের উদ্দেশে বের হন বিক্রি করার জন্য। ওই গরু পাচার করে আনা হয়েছে সন্দেহে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা তা জব্দ করতে গেলে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিজিবি সদস্যরা গুলি ছুড়লে তিনজন নিহত হন।

অন্যদিকে বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতীয় গরু আটক করায় সশস্ত্র চোরাকারবারিরা হামলা করলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ বলেন, ওগুলো ভারতীয় গরু। সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা কোনো এক সময় সেগুলো নিয়ে এসেছিলো। তারা বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময় সীমান্তের দুই কিলোমিটার ভেতরে আমাদের টহল দল তাদের ধরে। গরুগুলো বিওপিতে নেওয়ার সময় ২০০-৩০০ লোক ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। “আমরা প্রথমে ঠেকানোর চেষ্টা করেছি। তাতে আমাদের অস্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকজন আহত হয়েছে। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়েও বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় আমরা গুলি করতে বাধ্য হই।

এদিকে গুলিতে হতাহতের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কে এম কামরুজ্জামান সেলিম দুপুরে বহরমপুর গ্রামে যান। ঘটনাস্থলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, চোরাই গরু ঢুকেছে সন্দেহে বিজিবি অভিযান চালায়। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গরু জব্দ করে। তখন গ্রামবাসীর সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ বাঁধে এবং গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করেছে। তিনি বলেন, প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।