নারকেলের ছোবড়া কোটি টাকার রপ্তানি বাণিজ্য

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
নারকেলের ছোবড়া এক সময় এখানে সেখানে পড়ে থেকে পচে নষ্ট হতো অথবা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রক্রিয়াজাত এ ফেলনা জিনিস কোটি টাকার রপ্তানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। বাগেরহাটে একাধিক কারখানা স্থাপিত হয়েছে। যেগুলোয় ছোবড়া দিয়ে বিছানার জাজিম, দড়ি, যানবাহনের আসন, মাদুর ও শৌখিন জিনিসপত্র বানানো হচ্ছে। এসব রপ্তানি হচ্ছে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশে।

নারকেলের ছোবড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের বাণিজ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন বাগেরহাটের মোস্তাফিজ আহমেদ। তার কারখানায় তৈরি পণ্যে বৈচিত্র্য বেশি হওয়ায় বিদেশে চাহিদা বেশি। এখন পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তার দেয়া তথ্যমতে, গত ১৫ বছরে এ কারখানায় উৎপাদিত প্রায় পাঁচ হাজার টন পণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। ন্যাচারাল ফাইবার নামে এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু ২০০৫ সালে। তখন বাগেরহাট বিসিক নগরীতে পরীক্ষামূলকভাবে এবং ২০০৭ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে যাচ্ছে। এর মধ্যে ম্যাট, পাপোশ, কয়ের টেপ, উইড কন্ট্রোল ম্যাট, কয়ের শিট, কয়ের পট, হ্যাংগিং বাসকেট, লিনার বাসকেট, কয়ের ফিল্ট, সিড জার্মিনেশন পট অন্যতম।

কাঁচামাল সংগ্রহ ও পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে মোস্তাফিজ আহমেদ জানান, স্থানীয় বাজার ও নারকেল তেলের মিল থেকে ছোবড়া সংগ্রহ করা হয়। এরপর মেশিনে ছোবড়া থেকে আঁশ আলাদা করা হয়। আঁশ আলাদা করার সময় উপজাত হিসেবে যে ডাস্ট তৈরি হয়, তা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানি করা হয় প্রতি টন ১৫০ থেকে ২৫০ ডলারে। এগুলোকে বলে কয়ার পিট। ইউরোপসহ শীতপ্রধান দেশে কৃষিকাজ এবং গবাদিপশু পালনে এটি ব্যবহার হয়।