শ্বেত ভালুকের উৎপাতে রাশিয়ার দ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
শ্বেত ভালুকের উৎপাতে রাশিয়ার প্রত্যন্ত নোভায়া যেমালয়া দ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মেরু ভালুকগুলো নোভায়া জিমলিয়ার বাড়িঘরে ও সরকারি দপ্তর ভবনগুলোতে উৎপাত শুরু করায় শনিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারি করেছে।

দ্বীপের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে অসংখ্য শ্বেত ভালুক দ্বীপের মানব বসতিগুলোয় এসে হাজির হচ্ছে। এলাকাটিতে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু ভালুকগুলো আসতে শুরু করার পর অনেক মানুষ সেগুলোর হামলার শিকার হয়েছেন। খবর বিবিসির

জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার প্রাণীগুলোর মধ্যে মধ্যে শ্বেত ভালুক অন্যতম। খাবারের খোঁজে প্রায়ই সেগুলো লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। কিন্তু দেশিটিতে এসব ভালুক বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকাভুক্ত হওয়ায় শিকার করা নিষিদ্ধ।

কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ যেসব পেট্রোল বা সিগন্যাল ব্যবহার করে এসব ভালুক তাড়িয়ে থাকে, তা থেকে ভীতি কেটে গেছে এসব প্রাণীর। ফলে এগুলো সামলাতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তারা বলেন, ভালুকগুলোকে তাড়ানোর অন্যসব পন্থা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের সামনে একটি পদ্ধতিই খোলা থাকবে। তা হচ্ছে, এগুলোর মধ্য থেকে একটি অংশকে মেরে ফেলা।

কর্মকর্তারা আরো বলেন, দ্বীপের মূল বসতি বেলুশা গুবায় ৫২টি ভালুক দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ৬-১০টি সবসময়ই সেখানে থাকছে।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান ভিগানশা মুসিন বলেন, স্থানীয় সামরিক ঘাঁটিতেও পাঁচটির বেশি ভালুক রয়েছে। ১৯৮৩ সাল থেকে নোভায়া যেমালয়াতে আছি আমি, কিন্তু এভাবে এতো বেশি মাত্রায় ভালুকদের আসার ঘটনা আগে দেখিনি।

তার সহকারী জানান, ভালুকের কারণে বসতিগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের ডেপুটি অ্যালেক্সান্ডার মিনায়েভ বলেন, এতো বেশি ভালুকের আনাগোনায় মানুষজন ভীত হয়ে পড়েছেন, বাড়িঘর ছাড়তেও ভয় পাচ্ছেন তারা। তাদের প্রতিদিনকার রুটিন ভেঙে পড়েছে। অভিভাবকরা নিজেদের সন্তানদের স্কুল বা কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উত্তর মেরুর সাগরের বরফ গলে যাচ্ছে। এর ফলে মেরু অঞ্চলে থাকা শ্বেত ভালুকগুলো তাদের শিকারের অভ্যাস পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছে। তারা বরফের রাজ্য থেকে বেরিয়ে ভূমিতে এসে খাবার খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে, যা মানুষের সঙ্গে তাদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি করছে।

এর আগে ২০১৬ সালে শ্বেত ভালুকের কারণে পাঁচজন রাশিয়ান বিজ্ঞানী ট্রোনোয় দ্বীপের একটি প্রত্যন্ত আবহাওয়া স্টেশনে বেশ কয়েকদিন অবরুদ্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন।