জামাতের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে: আইনমন্ত্রী

ফাইল ছবি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
যুদ্ধাপরাধীর দল হিসেবে জামাতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। আজ রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর শুরুর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের রোববারের অধিবেশন শুরু হয়।

আনিসুল হক বলেন, দল হিসেবে জামাতে ইসলামীর বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে পুনরায় এই সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা যায়। আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালে জামাতে ইসলামীকে নিয়ে বিএনপি চার দলীয় জোট গঠন করে। যে জামাতে ইসলামী ১৯৭১ সালে রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় ও প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিলো, তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে চার দলীয় জোট জাতীয় পতাকা উড়িয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সব সময়ই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। এই সরকারই বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার রায়ে আদালত জামাতে ইসলামী দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলো মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত বছরের ২৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন জামাতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এ কে এম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত নকলনবিশদের চাকরি রাজস্ব খাতে ন্যস্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

হাবিবুর রহমান মোল্লার প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, বালু নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করে বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দখলমুক্ত করা হবে। এছাড়া শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, ধলেশ্বরী ও টঙ্গী খালের পানি কল-কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত তরলে দূষিত হয়ে পড়েছে। এসব নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ বাড়ানোর জন্য বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর অধীনে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদী থেকে পানি নিয়ে বুড়িগঙ্গায় ১৪১ কিউসেক পানি বাড়ানো হবে।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০১১ সালে তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানি বণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই সমতা, ন্যায়ানুগতা ও পারস্পরিক ক্ষতি না করার নীতির ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন হবে।

পরিচয়পত্র পেয়েছেন ১৪ লাখ জেলে
ভোলা-৩ আসনের নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয় প্রদান প্রকল্পের আওতায় (জুন ২০১৭) ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী-জেলেদের নিবন্ধন ও ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলের মধ্যে পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে।