আজ সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন রাজীব কুমার

ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
পশ্চিম বঙ্গের বহুল আলোচিত সারদা দুর্নীতি মামলার তদন্ত ইস্যুতে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। আজ শনিবার মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে সিবিআই-এর কর্মকর্তারা রাজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট রাজীব জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।

এনটিডিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার শিলংয়ে রাজীবকে দুই স্থানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রথমে শিলংয়ে সিবিআইয়ের অফিসে এবং পরে অনির্ধারিত এক স্থানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। বর্তমানে রাজীব কুমার শিলংয়ের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া রাজীবকে জেরা করতে দিল্লী থেকে শিলংয়ে পৌঁছেছে সিবিআইয়ের একটি দল।

বছর ছয়েক আগে এমএলএম ব্যবসার ফাঁদে ফেলে সারদা গ্রুপ সাধারণ মানুষের ২০ হাজার কোটি রুপি হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়। মমতার তৃণমূলের নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের আঙুল ওঠে। ওই কেলেঙ্কারি তদন্তের জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছিলো। কিন্তু তদন্তে যেসব তথ্যপ্রমাণ তিনি জব্দ করেছিলেন, সেগুলো সিবিআইর কাছে হস্তান্তর করেননি বলে অভিযোগ ওঠে।

বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাসহ তৃণমূল নেতাদের বাঁচাতেই তথ্যপ্রমাণ গায়েব করেছেন ওই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কয়েক দফা নোটিশ দিয়েও রাজীবের সাড়া পায়নি সিবিআই।

এরই মধ্যে ৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে হাজির হন সিবিআই কর্মকর্তারা। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ প্রথমে সিবিআই কর্মকর্তাদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।

একপর্যায়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ‘নজিরবিহীন’ এ ঘটনায় পুরো শহরে শোরগোল পড়ে যায়। এর পরপরই পুলিশ কমিশনারের বাসায় হাজির হন মমতা। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর মোদি ও তার সরকার অন্যায়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে দাবি করে ধরনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এরপর, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গ্রেফতারি থেকে রেহাই পান রাজীব কুমার। তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শিলংয়ে রাজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।