১৪ ফেব্রুয়ারির চেতনা কী হারিয়ে যাবে? আশীষ কুমার দে

আশীষ কুমার দে। ফাইল ছবি

নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা, বিশেষ করে বড় শহরগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি মহাধুমধাম করে ভ্যালেন্টাইন ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালন করেন। তরুণ-তরুণী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী এমনকি বয়োবৃদ্ধ অনেক দম্পতিকেও এদিন আনন্দে মাতোয়ারা হতে দেখা যায়।

গত কয়েকবছর ১৪ ফেব্রুয়ারির দিন বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ ও টিএসসি চত্বরসহ শাহবাগ এলাকা ঘুরে আমার এমন অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। এছাড়া এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কিছুসংখ্যক নারী-পুরুষের সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রাও আমার চোখে পড়েছে।

পঞ্জিকার হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাবর্ষে ফাল্গুন মাস, বসন্তকাল। তাই ভালোবাসা দিবসের র‌্যালি কিংবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ হলুদ রঙের পোশাক পরে থাকেন। বলা যায়, নারীদের প্রায় শতভাগই হলুদ শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরে বাসন্তী সাজে সজ্জিত হয়ে আসেন।

আবার কোনো কোনো সংগঠনের র‌্যালি, আলোচনাসভা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আগতদের একটি বড় অংশকে কোনো বিশেষ ব্রান্ডের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ বা উত্তরীয় পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাহলে এটা নিশ্চিত যে, কোনো কোনো আয়োজক সংগঠন এই পোশাক সরবরাহ করে থাকে।

এছাড়া অনেক অনুষ্ঠানের ব্যানারে পৃষ্ঠপোষক বা সহযোগী হিসেবে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামও লেখা থাকে, পোশাকেও দেখা যায় ওই প্রতিষ্ঠানের লোগো। এতে বিষয়টি স্পষ্ট যে, এই আয়োজনের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্পন্সর (অর্থসহায়তা) করে থাকে। অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসের অনুষ্ঠানও সুকৌশলে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিকরণ করা হচ্ছে; শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ওইদিন দেশের বড় শহরগুলোর চিত্রও প্রায় অভিন্ন।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকে সচিবালয়মুখি ঐতিহাসিক মিছিল

বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে উন্মুক্ত পরিবেশে সবাই পরষ্পরকে ভালোবাসা বিনিময় করবে; প্রেমিক-প্রেমিকা ও বন্ধু-বান্ধীরা আনন্দ-ফূর্তি করবেন, সববয়সী স্বামী-স্ত্রীরা হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠবেন- এটা অপরাধের কিছু না। বরং এতে সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হয়।

দেশজুড়ে বিশাল এই আনন্দযজ্ঞকে কেন্দ্র করে ফুলচাষি, ফুল ব্যবসায়ী, খাবারের দোকানদার ও চায়ের দোকানীসহ অনুষ্ঠানস্থল সংলগ্ন নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বিশেষ করে হকার ও চা-কফির দোকানদের একদিন উপার্জন অনেক বেড়ে যায়; যা এই শ্রেণির ব্যবসায়ী তথা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কিছুটা হলেও সুখকর। তাই নির্দিষ্ট একটি দিনে ভালোবাসা বিনিময়ের উৎসব উদযাপনে কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।

এছাড়া ১৪ ফেব্রুয়ারির একদিন আগে-পরে (কিংবা একইদিন) বাংলাবর্ষের পহেলা ফাল্গুন। এদিন ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় বসন্ত উৎসব; যা আবহমান বাংলার চিরন্তর ঐতিহ্যে লালিত কৃষ্টি ও সভ্যতার অংশ। বাঙালি ও আদিবাসীসহ এ দেশের সব জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ এদিন বাসন্তী উৎসবে মেতে ওঠে। তাই একজন বাঙালি ও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এই উৎসব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ আমার নেই।

আমার প্রশ্ন ১৪ ফেব্রুয়ারির চেতনা ম্লান হওয়া কিংবা সুপরিকল্পিতভাবে ম্লান করা নিয়ে। নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হয়তো দিবসটির তাৎপর্য সম্পর্কে জানেও না কিছু। ১৪ ফেব্রুয়ারিকে তারা জানে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে।

অথচ তিনযুগ আগের এদিনেই সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেছিল এ দেশের ছাত্র সমাজ। পুলিশের গুলিতে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল; শহীদ হয়েছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী, আহত হয়েছিলেন অনেকে। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মোহাম্মদ (এইচ এম) এরশাদ বঙ্গভবনে গিয়ে বন্দুকের নলের মুখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে দিয়ে সামরিক আইন জারি করিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩।ছাত্র মিছিলে গুলি চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি পুলিশ। তৎকালীন স্বৈরশাসকের নির্দেশে আহত ছাত্রদের এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ হেফাজতে

এর কিছুদিন পর শিক্ষানীতি সংস্কারের জন্য ড. মজিদ খানকে প্রধান করে গঠন করা হয় একটি কমিশন। পরবর্তী সময়ে ওই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ছাত্র সমাজের কাধে একটি বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়া হয়; যার বোঝা বা ব্যয়ভার নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অভিভাবকদের বহন করা অসম্ভব ছিল। ‘কুখ্যাত মজিদ খানের শিক্ষানীতি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই নীতিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও ধনী-দরিদ্র বৈষম্য সৃষ্টির অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু সামরিক শাসক (পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক) এরশাদের ওই শিক্ষাব্যবস্থা এ দেশের ছাত্র সমাজ মেনে নেয়নি। গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন তারা। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ, বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের একাধিক অংশ (পরবর্তী সময়ে ছাত্র মৈত্রীর সঙ্গে একীভুত হলেও আবারো দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী নামে পৃথক দুটি সংগঠনের জন্ম হয়), বাসদ ছাত্রলীগ ও ছাত্র সমিতিসহ ১৪টি সংগঠন মিলে গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

প্রসঙ্গত, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্র শিবির সক্রিয় থাকলেও আদর্শগত কারণে তাদেরকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে কখনও নেওয়া হয়নি। সংগঠন দুটি আলাদা আলাদা অবস্থানে থেকে কর্মসূচি পালন করতো।

এরশাদ সরকারের সেই গণবিরোধী শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলা থেকে শুরু হয় সচিবালয়মুখী মিছিল; যে মিছিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। কার্যত এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে এটাই ছিল প্রথম প্রতিবাদ।

সেদিন মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন তৎকালীন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ও ইউকসুর (বুয়েট) ভিপি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুক (কয়েকবছর আগে প্রয়াত), ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক, বাসদ ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর ভিপি আক্তারুজ্জামান (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান), বাসদ ছাত্রলীগ নেতা ও ডাকসুর জিএস জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু (অল্পদিনের মধ্যে আন্দোলনের পিঠে ছুরিকাঘাত করে এরশাদের পক্ষে ভিড়ে প্রথমে উপ-মন্ত্রীর মর্যাদায় এরশাদের শিক্ষা উপদেষ্টা, পরে প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমানে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য), বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ও রাকসু ভিপি ফজলে হোসেন বাদশা (বর্তমানে ওয়ার্কার্স পাটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ),

জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ডা. মুস্তাক হোসেন (পরবর্তী সময়ে ডাকসু জিএস ও বর্তমানে জাসদ-একাংশের নেতা), ছাত্রলীগ নেতা ও পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহীউদ্দিন (আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ), ছাত্র লীগ নেতা খ ম জাহাঙ্গীর (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী), ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক (বর্তমানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী), ছাত্র মৈত্রীর নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন (বর্তমান বিএনপি নেতা ও সাবেক সাংসদ)।

উল্লেখিত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠনের পেছনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা ফজলুর রহমান (বর্তমানে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা), বাহালুল মজনু চুন্নু (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) ও মুকুল বোসের (বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

গগনবিদারী স্লোগানমুখর মিছিলটি পথে বিভিন্ন স্থানে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে সচিবালয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কেন্দ্রস্থলকে তিন দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে। পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের খন্ড খন্ড সংঘর্ষও হতে থাকে। পুলিশি লাঠিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস উপেক্ষা করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে জড়ো হতে থাকে সচিবালয়ের বাইরে।

প্রতিবাদী ছাত্র সমাজের এই বাধভাঙ্গা জোয়ার দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে সরকার। একর্পযায়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তি এরশাদের নির্দেশে মিছিলের ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে পুলিশ; সেই গুলিতে শহীদ হন মোজাম্মেল, আইয়ুব, দিপালী সাহা, জাফর, জয়নাল, কাঞ্চনসহ আরো অনেকে; আহত হয়েছিলেন শতাধিক ছাত্রছাত্রী।

১৯৮৩ এর ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সমাজের বীরোচিত আত্মাহুতির দিনে এখন ঘটা করে পালন করা হয় ’ভ্যালেন্টাইন ডে’

এ ঘটনার পরপরই সেনবাহিনী, বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর) ও পুলিশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁড়াশী অভিযান চালায়। সেই অভিযানে কতোজন গ্রেপ্তার, পৈশাচিক নির্যাতন ও দীর্ঘ কারাভোগের শিকার হয়েছিলেন তা নতুন প্রজন্ম জানে না; এমনকি আমরাও ভুলতে বসেছি কিংবা অনেকে ভুলেও গেছি।

১৯৮২-পরবর্তী বছরগুলোতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনয়নসহ বামপন্থী কিছু ছাত্র সংগঠন ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ছাত্রহত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করলেও কালের স্রোতে তা-ও বন্ধ হয়ে গেছে। ছাত্র সমাজের অধিকার আদায়ের জন্য নতুন প্রজন্মকে দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তাদের পূর্বসুরিদের গৌরবগাঁথা সম্পর্কে জানানোর দায়িত্ব তো সাধারণ মানুষের নয়; রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলোর, বিশেষ করে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে যেসব দল ও সংগঠন সোচ্চার ছিল।

তবে আমরা ভুলে গেলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারির স্বত:স্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলনের পথ ধরেই সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও সিপিবির নেতৃত্বে ১৫ দলীয় এবং বিএনপির নেতৃত্বে সাতদলীয় জোট গঠিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৫ দল ভেঙ্গে আটদল ও পাঁচদলীয় জোট গঠিত হয়।

আটদল, সাতদল ও পাঁচদল- এই তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই ১৯৯০ এর ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে এরশাদের; সামরিক-স্বৈরশাসনমুক্ত হয় জাতি। যদিও সেই সফল গণঅভুত্থান সফল করতে তাজুল, শাহাদৎ, ময়েজউদ্দিন, ডা. মিলন, মঈন হোসেন রাজু, সেলিম, দেলোয়ার, নূর হোসেন ও রাউফুন বসুনিয়াসহ আরো অনেককে আত্মাহুতি দিতে হয়েছিল।

এখন প্রশ্ন হলো- সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বীরোচিত আত্মদানের গৌরবোজ্জ্বল দিনটিকে সবাই কি ভুলে যাবে? আমরা কি ১৪ ফেব্রুয়ারির চেতনাকে পায়ে মাড়িয়ে বিদেশি সংস্কৃতির স্রোতে অবগাহন করে দিনটিকে শুধুই ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ হিসেবে উদযাপন করবো?

কর্পোরেট বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে স্পন্সর করিয়ে জাকজমকপূর্ণভাবে ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ উদযাপনের মাধ্যমে তাদের পণ্যের প্রচার বাড়ানোর জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারির চেতনাকে মুছে ফেলা হচ্ছে না তো?

যদি তাই হয় এবং সেই ফাঁদে পা দিয়ে আমরা যদি দিবসটির তাৎপর্য ভুলে যাই, তাহলে সেটা হবে অত্যন্ত বেদনার ও লজ্জার; শহীদদের কাছে আমরা অকৃতজ্ঞ থেকে যাবো এবং ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই ছাত্র সংগঠনগুলোর উচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরসহ সারা দেশে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ছাত্রহত্যা দিবস হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা।

আশীষ কুমার দে: সম্পাদক, পিটিবি নিউজ.কম ও সাপ্তাহিক পাঠকের কন্ঠ।