কাজে ফিরেছেন পোশাক শ্রমিকরা

সাভার সংবাদদাতা, পিটিবিনিউজ.কম
প্রথম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেসিক বা মূল মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে কাজে ফিরেছেন অধিকাংশ পোশাক শ্রমিকরা। সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার পোশাক শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও মজুরি সমন্বয়ের বিষয়ে এখনো তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। আজ সোমবার সকালে নিজ নিজ কারখানায় শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে।

তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের টঙ্গি-আশুলিয়া মহাসড়কে পোশাক কারখানার কিছু শ্রমিক সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় কিছু কারখানায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, সকাল ৯টার দিকে অবরোধের চেষ্টা করে শ্রমিকরা। এখন পরিস্থতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

পুরো আশুলিয়া এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নজরদারি করতে দেখা গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ে শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে, সরকার নতুন বেতন কাঠামো করেছেন। এখন যেসব শ্রমিক কাজ করবেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করুন। কেউ কাজ না করতে চাইলে বের হয়ে যান। কাজে বিঘ্ন ঘটাবেন না।

জানুয়ারিতে নতুন কাঠামোয় মজুরি পাওয়ার পর রাজধানী এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু কারখানার শ্রমিকদের অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার মালিকপক্ষের পাঁচজন, শ্রমিকপক্ষের সমসংখ্যক সদস্য এবং শ্রম ও বাণিজ্য সচিবসহ মোট ২০ সদস্য নিয়ে মজুরি পর্যালোচনায় ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠন করে সরকার।

শ্রম অসন্তোষের পেছনে শ্রমিকদের অন্যতম আপত্তি ছিল ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের বেসিক নিয়ে। বেসিক বাড়লে বোনাস, ওভারটাইমসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ে। শ্রমিকদের দাবি, নতুন মজুরি কাঠামোয় বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা যে হারে বেড়েছে; বেসিক সে হারে বাড়েনি।

মজুরি পর্যালোচনায় গঠিত কমিটির তৃতীয় বৈঠকে প্রথম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বেসিক বা মূল মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পর্যালোচনায় ছয় গ্রেডের বেসিকই বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম গ্রেডের বেসিক নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৩৮ টাকা। মজুরি বোর্ডের ঘোষণায় যা ছিলো ১০ হাজার ৪৪০ টাকা। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডের আট হাজার ২২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ৪৪ টাকা করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেডে পাঁচ হাজার ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৩৩০ টাকা করা হয়েছে। চতুর্থ গ্রেডে বেসিক চার হাজার ৮৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার ৯৩০ টাকা হয়েছে। পঞ্চম গ্রেডে চার হাজার ৬৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ হাজার ৫০৫ টাকা ও ষষ্ঠ গ্রেডে চার হাজার ৩৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার ৩৮০ টাকা হয়েছে। সপ্তম গ্রেডের বেসিক মজুরি বোর্ড নির্ধারিত চার হাজার ১০০ টাকা রয়েছে।