বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বদল সময়ের দাবি: আশীষ কুমার দে

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বছর দুয়েক আগে এক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “দুর্নীতি আর রাজনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। দুর্নীতিবাজরা রাজনীতি ছাড়ুন, রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি ছাড়ুন।” সমকালীন রাজনীতিতে একজন সৎ, নির্লোভী, স্পষ্টভাষী ও বিনয়ী নেতা হিসেবে সব মহলে গ্রহণযোগ্য ছিলেন তিনি। সৈয়দ আশরাফের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর পর বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে বহু মানুষ ফেসবুকে পৃথক পৃথক স্ট্যাটাস দিয়েছেন এবং প্রতিটি পোস্টের ওপর শত শত লাইক ও কমেন্ট পড়েছে। এমন শতাধিক স্ট্যাটাস আমার নিজের চোখেই পড়েছে। এতে বুাঝা যায়, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

আজ ৭ জানুয়ারি শপথ নেওয়া (৬ জানুয়ারি ঘোষিত) নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা গেছে, বিদায়ী মন্ত্রিসভার ৩৬ জন বাদ পড়েছেন; নতুন যুক্ত হয়েছেন ৩১ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত তিন দফা (১৯৯৬-২০০১ সময়কালসহ) রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার আলোকেই চতুর্থবার সরকার গঠনে এমনটি করেছেন। এ প্রসঙ্গে যে বিষয়টি বেশি চাউর হয়েছে তা হলো- এবার তিনি বিতর্কিতদের সরকারের বাইরে রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নতুনদের প্রাধান্য দিয়েছেন। যদিও বিদায়ী মন্ত্রিসভার বাদপড়া ৩৬ জনই বিতর্কিত ছিলেন না; তবে তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই নানা রকম অভিযোগ ছিল। আবার কেউ কেউ বার্ধক্যের কারণে বাদ পড়েছেন। যাই হোক না কেনো, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর নতুন সরকার গঠনের মধ্যে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের প্রতিফলন লক্ষণীয়। কারণ বাদ পড়াদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বা রয়েছেও। এছাড়া ‘মন্ত্রী হচ্ছেন’ বলে আলোচনায় থাকা কোনো কোনো সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতাও একই অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় তারাও শেষপর্যন্ত ঠাঁই পাননি মন্ত্রিসভায়। সুতরাং শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে চান- আওয়ামী লীগ ও সরকারকে এমনই একটি সতর্ক বার্তা তিনি দিলেন বলে দৃশ্যত প্রতীয়মান হয়।

জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হচ্ছে সাবেক শাসক দল বিএনপি। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনেও তারাই ছিল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। যদিও জোটভিত্তিক ভোটের লড়াইয়ে দলটি সে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। আসন প্রাপ্তির দিক থেকে তলানিতে এসে ঠেকেছে তাদের জনপ্রিয়তা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হওয়ার সুবাদে ২২টি আসনে জয় পেয়ে প্রধান বিরোধীদলের স্থান দখল করে নিয়েছে এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি। অথচ দলটির প্রতিষ্ঠাতা সামরিক-স্বৈরশাসক এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আপামর জনতাকে দীর্ঘ ৯ বছর ছাত্র-গণআন্দোলন করতে হয়েছিল। আর ওই আন্দোলন করেছিল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সিপিবিসহ এ দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র-গণসংগঠন ও পেশাজীবী মহল।

তবে বিএনপির কেনো এই ভরাডুবি? এতোবড় দল, এই দলের নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট, আবার নির্বাচনের আগমুহূর্তে ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে সেখানে সামিল হওয়ার পরও মাত্র পাঁচটি আসন (বিএনপি ৫ ও ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম ২) কেনো পেলো দলটি- এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। এর জবাবে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতাদের প্রকাশ্য যুক্তি- ভোট ডাকাতি হয়েছে, কারচুপি করে তাদের হারিয়ে দিয়েছে সরকার। নির্বাচন কমিশন ও সরকারি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপির অভিযোগনামার পক্ষে যুক্তি বা গ্রহণযোগ্য তথ্য থাকতে পারে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠীর সমন্বয় গঠিত এই জোটের ভরাডুবির এটাই একমাত্র ও মূল কারণ নয়।

বাস্তবতা হচ্ছে- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপি এখন কার্যত অদৃশ্য সূতার টানে চলমান একটি খেলনা গাড়ি; যার রিমোট কন্ট্রোল (লাটাই) রয়েছে সুদূর লন্ডনে। এ লাটাইয়ের চালক হলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান; যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান চেয়ারপার্সন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রশ্নবিদ্ধ অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি-জামায়াতসহ চারদলীয় জোট সরকার গঠনের পরপরই তারেককে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করেন তাঁর মা খালেদা জিয়া। মূলত তখন থেকেই দলটি আস্তে আস্তে তাঁর নিয়ন্ত্রণে যেতে শুরু করে। শুধু দল নয়, ওই সময় তিনি গুলশানে বহুল আলোচিত হাওয়া ভবনে বসে সরকারের ওপরও মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করতেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত ও বিচারিক আদালতের রায়ের পর্যবেক্ষণে এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

২০০৭ সালে ১/১১ এর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েকমাস পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডন পাড়ি জমান তারেক রহমান। তখন থেকেই সেখানে অবস্থান করছেন তিনি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শোচনীয় পরাজয় ঘটে, ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। এরপর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে লন্ডনেই স্থায়ীভাবে সংসার জীবন শুরু করেন তিনি। তবে বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে তারেককে পদোন্নতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারপার্সন করেন তার মা। দল রাষ্ট্রক্ষমতায় না থাকার কারণে তারেক রহমান সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও বিএনপিকে নিজের কব্জায় নিয়ে নেন। খালেদা দেশে অবস্থান করলেও লন্ডনপ্রবাসী ছেলের পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন না। ফলে আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে বিএনপি অনেকটা ‘রাজনৈতিক দুর্গন্ধ’মুক্ত হয়েছিল, সেই বিএনপি পরিণত হয় মা-ছেলের পারিবারিক দলে।

প্রবাস জীবনে থাকাকালেই তারেকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে দুটি মামলায় সাজা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাবাস এবং এর আগে একটি অর্থপাচার মামলায় বিচারিক আদালতে খালাস পেলেও উচ্চ আদালতে কারাদণ্ডাদেশ হয়েছে তাঁর। কিন্তু তাতেও দলের নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব হারাতে হয়নি তাকে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন খালেদা জিয়া। রায় ঘোষণার পরপরই তাঁকে জেলে যেতে হয় এবং এখনও কারাবন্দি রয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। খালেদার অনুপস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তথা সর্বোচ্চ নেতা বনে যান তারেক। আগে মা-ছেলে দল চালাতেন, নিজের সিদ্ধান্ত মায়ের মাধ্যমে দলের ওপর চাপিয়ে দিতেন। আর এখন জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর একক কর্তৃত্ব আরোপ করছেন। দল পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’ থাকলেও তা হচ্ছে ‘ঠুটো জগন্নাথ’। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হলেন ‘ঢাল-তলোয়ালহীন নিধিরাম সর্দার’। তবে নানা প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেও তিনি (ফখরুল) দলকে সামাল দিয়ে চলেছেন এবং সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের কিছুটা হলেও সক্রিয় করতে পেরেছেন।

এদিকে মির্জা ফখরুল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হলেও দলের মুখপাত্র করে রাখা হয়েছে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে; যিনি মহাসচিব কিংবা জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই প্রতিদিন এক বা একাধিকবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করে প্রলাপ বকেন। অজ্ঞাত কারণে দৃশ্যত সংসারবিরাগী রিজভী নাকি গত ৭-৮ বছর বিএনপি কার্যালয়কেই আবাসস্থল বানিয়ে নিয়েছেন! বিএনপি সূত্রের খবর, তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি সেখানে কয়েকবছর লাগাতর অবস্থান এবং প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করছেন।

যেকোনো দল বা সংগঠন কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ম হচ্ছে- উচ্চ পদধারী কেউ বিদেশ বা দীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে (সাতদিন বা ততোধিক সময়) গেলে তার পরবর্তী পদধারী ব্যক্তিতে সাময়িক দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ বৈপরীত্য লক্ষণীয়। তারেক দীর্ঘমেয়াদী পরবাসে থেকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব থেকে পদোন্নতি পেয়ে জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারপার্সন হলেন। এরপর দুটি মামলায় কারাদণ্ডাদেশ পেয়ে দেশে ফেরা অনিশ্চিত হওয়ার পর হলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন। এ যেন কোনো রাজনৈতিক দল নয়, পৈত্রিক সম্পত্তি! ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শ্বাসরুদ্ধর পরিস্থিতিতে সামরিক ছাউনিতে বসে জিয়াউর রহমান দলটির জন্ম দিলেও কালের বিবর্তনে একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছিল বিএনপি। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দলটিকে অনেক চড়াই-উতরাই পেরুতে হয়েছে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে (পঞ্চম সংসদ) জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি তার জন্মত্রুটি অনেকটাই মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল। ওই বিজয়ের কৃতিত্ব কিন্তু শুধু খালেদা কিংবা তারেকের ছিল না। তারেক তখন রাজনীতিতেও আসেননি। অথচ সেই বিএনপি এখন বিদেশে পলাতক একাধিক ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত আসামি তারেকের হাতের পুতুল।

রাজনৈতিক বোদ্ধা ও বিশ্লেষকদের মাঝে বিএনপির আদর্শ নিয়ে যতো নেতিবাচক সমালোচনা থাকুক না কেনো, সারা দেশে এ দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মী রয়েছেন; সমর্থকও রয়েছে অগণিত। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী পক্ষগুলো নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কখনও ভোট দেয় না। এ কারণে তাদের সিংহভাগ ভোট বিএনপির বাক্সেই যায়। ফলে বিএনপির নিজস্ব একটি ভোটব্যাংকও তৈরি হয়েছে। এছাড়া দলটিতে এখনও অনেক দক্ষ, প্রজ্ঞাবান ও পোড়খাওয়া প্রবীণ নেতা আছেন। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় একটি শক্তিও আছে বিএনপির মধ্যে। এই অংশ তুলনামূলক ছোট; তবে তার মধ্যে অনেক মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছেন। এমন একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিদেশে পলাতক একজন দণ্ডিত আসামির হাতে থাকা সত্যিই দু:খজনক। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য লজ্জারও বটে।

এদিকে দুর্নীতির মামলায় উচ্চ আদালতে আপিলে কারাবন্দী খালেদার সাজার মেয়াদ বেড়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরো একাধিক দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁর কারামুক্তি কবে হবে, তা কেউ-ই বলতে পারছেন না। এছাড়া বয়সের ভারে ও নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুও তাকে মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাত করেছে। তাই তিনি মানসিক ও শারীরিক- উভয় দিক থেকেই দুর্বল। অন্যদিকে দুই মামলায় দণ্ডিত তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছর (আওয়ামী লীগ শাসনামল) যে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরছেন না- তর্কাতীতভাবেই তা বলা যায়। এ অবস্থায় তারেককে দলের শীর্ষ নেতা রেখে বিএনপি স্বাভাবিক গতিতে চলবে, সুস্থ ধারায় ফিরে এসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা স্বত:স্ফূর্তভাবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন- এমনটি প্রত্যাশা করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তাই বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের উচিত- দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল অধিবেশন ডেকে নতুন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনসহ গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা। এটাই এখন সময়ের দাবি। সৌজন্যে: চ্যানেল আই অনলাইন।

আশীষ কুমার দে
সম্পাদক, পিটিবিনিউজ.কম ও প্রধান সম্পাদক, সাপ্তাহিক পাঠকের কন্ঠ।