কুষ্টিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ, যাচ্ছে অষ্ট্রেলিয়াতে

শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
মধু, নামটি যেমন মিষ্টি খেতেও তেমনই মিষ্টি। মধুর উপকারীতা জানেনা এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায় হবে। কিন্তু বাজারে যেসব মধু পাওয়া যায় তার নির্ভেজালতা নিয়ে মানুষের মনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কুষ্টিয়ায় ব্যতিক্রম মধু চাষ করে সাড়া ফেলেছেন মামুনার রশিদ মামুন। স্থানীয়রা এখন তাকে মধু মামুন বলেই চেনে। তিনি সরিষা ক্ষেতেই মৌ চাষের মাধ্যমে মধু আহরণ করেন। তা বাজারে বিক্রি করে নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছেন। এলাকার মানুষ সহজেই খাঁটি মধু পাচ্ছেন। এখন মামুন এই মধু অষ্ট্রেলিয়াতে রপ্তানি শুরু করেছেন। বিষয়টি এ অঞ্চলে বেশ সাড়া ফেলেছে। দিন দিন মামুনের এই মধু আহরণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মৌমাছি বিচরণে পরাগায়নের মাধ্যমে মধু সংগ্রহের এই পদ্ধতিতে সরিষার ফলনও বাড়ে। আর এই কাজে এগিয়ে এসেছেন মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ। তার তত্ত্বাবধানে ১৪টি এস,এন,ই গ্রুপ উপজেলাতে কাজ করছে।

সরিষা মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, মাঠ জুড়ে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। এক মাস আগেই কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গেটপাড়ায় সরিষার মধ্যে মামুন ৩০০টি মৌ চাষের বাক্স বসিয়েছেন। বাক্স থেকে মৌমাছির দল পাশের সরিষা ক্ষেতে উড়ে উড়ে ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সের মৌচাকে জমা করছে। আর সেখান থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হচ্ছে মান সম্মত সুস্বাদু মধু। এই কাজে মামুনের সহযোগী হিসেবে বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থানও হয়েছে। এলাকার মানুষ কিনতে পেরেও বেশ খুশি।

মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, মিরপুর উপজেলায় ৫৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে ১২০ হেক্টর সরিষা মৌ চাষের আওতায় আনা হয়েছে। এর জন্য উপজেলায় ১৪টি এস,এন,ই গ্রুপ কাজ করছে। উপজেলার কৃষি অফিসের সহযোগিতায় অতীত অভিজ্ঞতা থাকায় এ বছরও মামুনকে ৩০০টি বাক্স দেয়া হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে তাকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। আশা করছি চলতি বছরে গতবারের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

শামীম হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যাক্তি এসেছিলেন মামুনের মধু কিনতে। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ভেজালের যুগে নিজ চোখে খাঁটি মধু উৎপাদন এবং তা কিনতে পেরে বেশ খুশি লাগছে। এখান থেকে মাত্র ৩৫০ টাকায় এক কেজি খাঁটি মধু পাওয়া যাচ্ছে। আসলাম হোসেনর মতো অনেকেই ভিড় জমিয়েছে মামুনের খাঁটি মধু কিনতে।

মধুচাষী মামুনার রশিদ মামুন জানান, ১৯৯৭ সালে মিরপুরের গেটপাড়ায় নিজের বাড়ীতে একটি মৌমাছির চাক দেখে সরিষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত থেকে এভাবে মধু সংগ্রহ শুরু করি। এখন এই কারবার বেড়েছে। মধু সংগ্রহে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়েছি। মধু প্রক্রিয়াজাত করে অষ্ট্রেলিয়াতে রপ্তানি করছি। গত বছর ৩০০ কেজি মধূ অষ্ট্রেলিয়াতে পাঠিয়েছি। এবার এর বেশি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তিনি আরো জানান, এবছর কমপক্ষে ৮০ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছি। মধু চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছি। আরো বড় পরিসরে মৌ চাষের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করলে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিপুল পরিমাণ মধু বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার জানান, এ বছর কুষ্টিয়ায় ছয় হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৪০০ হেক্টর সরিষা মৌ চাষের আওতায় আনা হয়েছে। মৌমাছি পরাগয়নের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি, কৃষকদের আয় বৃদ্ধিসহ কর্মসংস্থানের জন্য মৌ চাষে সহযোগিতা করা হচ্ছে।