হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ায় চালের বাজার অস্থির

শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
নির্বাচনের আগে চালের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করেই চালের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে। সব রকমের চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ২-৩ টাকা। বাজারে নতুন ধানের সরবরাহ থাকলেও চালের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষুব্ধ। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। এখানকার চালকল মালিকদের দাবি ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন বছরের শুরুতে হঠাৎ করেই চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রকার ভেদে ধানের দাম মন প্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চালের দাম প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে অনুযায়ী, নতুন বছরে কেজিতে ধানের দাম বেড়েছে আড়াই থেকে ৩টাকা। আর চালের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা থেকে তিন টাকা। কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি। এর ফলে চালের বাজার বৃদ্ধি হওয়ায় ক্রেতারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি সরকারি মনিটরিংয়ের।

সজিবর রহমান নামে এক দিনমজুর ক্রেতা জানান, চালের দাম কয়েকদিনে হু হু করেছে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যে চাল কিনেছি এখন সেই চালই কেজিতে ৩টাকা বেশি নিচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি বাজারে নতুন ধান উঠলেও এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েনি। বরং প্রায় সব রকম চালের দাম কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা থেকে তিন টাকা করে।

খাজানগরের চালকল মালিক আজবার আলীসহ অন্যান্য মিল মালিকদের দাবি ধানের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে খুচরা বাজারে যে হারে চালের দাম বেড়েছে সেই হারে বাড়েনি মোকামে চালের দাম।

নিজামুল ইসলাম নামে এক কৃষকসহ স্থানীয় কৃষকরা জানান ধান চাষে যে পরিমাণ খরচ হয় ধানের দাম বৃদ্ধি না পেলে লোকসান হবে। নির্বাচনের আগে ধানের দাম একেবারে নিম্ন মুখি ছিলো, তবে এখন ধানের দাম কিছুটা বেড়েছে। এর থেকে দাম কমলে চাষীদের ধান চাষে লাভ হবে না।

মিনিকেট চাউল গত সপ্তাহে কেজি প্রতি ছিলো ৪৮ টাকা এখন বেড়ে ৫০টাকা, কাজললতা চাউল গত সপ্তাহে ছিলো ৩৯ টাকা কেজি এখন ৪২ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য মোটা চালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে।

কুষ্টিয়ায় ৩৩টি বৃহৎ এগ্রো অটো রাইস মিলসহ ছোট-বড় প্রায় ৬০০ রাইস মিল রয়েছে। আর ধান চাতাল রয়েছে প্রায় দুই সহস্রাধিক। তাই চালের দাম কম বৃদ্ধিতে এখানকার মিলারদের ভূমিকাও কোনো অংশে কম নয়।