‘আন্দোলনে যারা ব্যর্থ তারা কোনো নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না’

ছবি: পিআইডি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
আন্দোলনে যারা ব্যর্থ হয়, তারা কোনো নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের সব আন্দোলনই ব্যর্থ হয়েছে। আর আন্দোলন যাদের ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে তারা জয়ী হতে পারে না।

নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোটের ব্যর্থতার কারণ তাদেরকেই খুঁজে বের করতে হবে- এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে নির্বাচনী জয়ী হবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সিলেটে ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি, যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকেই নমিনেশন দেয়া হয়েছে। ইনাম আহমেদ চৌধুরীকে নমিনেশন দিলে তিনি হয়তো জিততে পারতেন। ধামরাইয়ে আতাউর রহমান খানের ছেলে জিয়াউর রহমান খান নমিনেশন পাবে বলেই ধারণা ছিলো। তিনি হয়তো জিততেনও কিন্তু তাকে নমিনেশন দেয়া হয়নি, নারায়ণগঞ্জে তৈমুর আলম খন্দকারকে নমিনেশন দেয়া হয়নি— এরকম আরো অনেক জায়গায় তারা যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে নমিনেশন দিয়েছে।

এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকে জামাতে ইসলামী ২৫ জনকে মনোনয়ন দেয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের ভোট দেবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সময়ে এ দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে, তারা অনেক কষ্ট পেয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে দেশ পরিচালিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ হয়েছিলো। মাত্র ১০ বছরে আমরা যা পেরেছি, ২৮ বছরেও অন্যরা তা কেনো পারেনি? কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়। যখনই জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন ক্ষমতায় এসেছে তখনই মানুষের উন্নতি হয়েছে এবং এই উন্নয়ন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ায় এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বিপুল এই বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করে তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ১০ বছরেই এই দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হতো। জাতির পিতা আজ নেই। কিন্তু তার আদর্শ আছে। আমরা তার আদর্শ অনুযায়ী দেশ গড়ে তুলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দেয়া ভাষণে বঙ্গবন্ধু দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন একটি সদ্য স্বাধীন দেশ কীভাবে চলবে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিনি প্রশাসনিক অবকাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। তিনি বলেন, মহৎ কিছু অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন হয়। দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য বঙ্গবন্ধুর মহৎ আত্মত্যাগ আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। বাংলাদেশ জুড়ে বঙ্গবন্ধু আছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সংসদ, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

আজ ১০ জানুয়ারি। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন দেশে ফিরেছিলেন। একাত্তরে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর শহীদের রক্তস্নাত বাংলার মাটি ও মানুষ এই দিন ফিরে পেয়েছিলো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।