বাগেরহাটে তৎপর হয়ে উঠেছে পাখি শিকারীরা

এস এম রাজ, বাগেরহাট প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা ও তার আশপাশের বিলাঞ্চলের পাখি শিকারীরা তৎপর হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিলে তারা অতিথি পাখি শিকারের জন্য ব্যবহার করছে নানা ধরনের ফাঁদ। এসব ফাঁদ দেখে দূর থেকে মনে হবে বিলজুড়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। এটা কোনো বৈদ্যুতিক লাইন নয়। এটা পাখি ধরার জন্য শিকারীদের পাতা ফাঁদ।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে এ অঞ্চলের বিল, জলাশয় ও ডোবানালায় অতিথি পাখিদের আগমণ ঘটে। এ বছরও পাখিদের আগমণ ঘটেছে। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উপজেলার বারাশিয়া, কালশিরা, বেন্নাবাড়ি, রুইয়েরকুল, হোগলা বুনিয়া ও মোল্লাহাটের কোদালিয়াসহ আশেপাশের এলাকার বিভিন্ন বিলে এ ধরণের ফাঁদ পেতে পাখি শিকার চলছে। আর এসব পাখি গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পাখিদের মধ্যে রয়েছে কালকুচ, বালিহাঁস, মদনটাক, মানিকজোড়া, দিঘারিসহ বিভিন্ন প্রজাতি। আর এ ফাঁদে জড়িয়ে শুধু অতিথি পাখিই নয় দেশীয় প্রজাতির পাখি ও নির্বিচারে নিধন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কঠোর পদপেক্ষ গ্রহণ করা না হলে পাখিদের অস্তিত্ব টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে অভিমত জানিয়েছেন পাখি বিশেষজ্ঞরা।

খড়মখালী গ্রামের সমাজকর্মের ছাত্র গোবিন্দ মজুমদারসহ অনেকে বলেন, বারাশিয়া, কলিগাতী, বেন্নাবাড়ি, কালশিরাসহ এলাকায় প্রায় শতাধিক ব্যক্তি পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এসব শিকারীরা খুবই চতুর। তারা পাতার বাঁশি বাজিয়ে পাখিদের ডাক নকল করে ফাঁদের কাছে নিয়ে আসে। এরপর এসব পাখি ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে। আর এসব ফাঁদে শুধু অতিথি পাখি শিকার করা হচ্ছে না পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ফাঁদে ধরা পড়ছে।

পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, সুদুর সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি পাখিরা আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে প্রতিবছর শীত মৌসুমে এদেশের হাওর, বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে আশ্রয় নেয়। এসব পাখি পরিবেশেরই একটা অংশ ফলে এদের হত্যা ও শিকার বন্ধ করা দরকার। পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ অথচ কিছু অসাধু লোক অর্থের লোভে পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা বনকর্মকর্তা চিন্ময় মধু বলেন, বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখের। এ ব্যাপারে খুলনা প্রাণি সম্পদ দপ্তরকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।