কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ চাষে সাফল্য পেলেও দাম নিয়ে হতাশ চাষীরা

শরীফুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
তরকারি বা বিভিন্ন স্বাদের খাবার রান্নার কাজে মসলা অপরিহার্য। তার মধ্যে পেঁয়াজ মসলা অন্যতম মসলা যা সব ধরণের সবজি বা খাবার সামগ্রীর সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে। পাশাপাশি এটি অর্থকরী ফসল হিসেবেও কৃষকের কাছে গণ্য। আর এ মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ চাষ করে বছরের অর্থনৈতিক চাহিদাও মিটিয়ে থাকেন কৃষকরা। তবে এবছর পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের ফলনে সাফল্য আসলেও দাম নিয়ে চরম হতাশ তারা।

চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় ১১,২২০ (এগার হাজার দুইশত কুড়ি) হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারিত হলেও তা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের ফলনও বিগত বছরের চেয়ে ভাল হয়েছে। তবে দাম নিয়ে চরম হাতাশ পেঁয়াজ চাষীরা।

মহিষকুন্ডি এলাকার আবুল কাশেম নামে এক পেঁয়াজ চাষী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তার পেঁয়াজ চাষে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রয় করে লাভের পরিবর্তে উৎপাদন খরচই উঠছে না বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

ভাগজোত এলাকার আব্দুল জব্বার নামে অপর কৃষক অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে এলসি’র মাধ্যমে পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজার দখল করায় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ বাজারজাতকরণে সমস্যায় পড়ছেন তারা।

তবে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য কৃষকদের বীজ, সারসহ প্রয়োজীয় প্রনোদনা ও পরামর্শ দেয়ায় পেঁয়াজ চাষ ভাল হয়েছে এবং ফলনও বাম্পার হয়েছে। পরবর্তীতে এলক্ষ্যমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষন সরকার।

কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সবধরনের ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজও চাষ করে দেশের মসলার চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। তবে এ ফসল উৎপাদনের পর লাভের পরিবর্তে লোকসানের মুখে পড়লে পরবর্তীতে পেঁয়াজ চাষের আগ্রহ হারাবে। ফলে তামাক চাষ অধ্যুষিত কুষ্টিয়ায় আবারো তামাক চাষ বৃদ্ধি পাবে। আর এমনটাই মনে করেন এ অঞ্চলের সাধারণ কৃষক।