শিগগিরই দুর্নীতি রোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে: দুদক চেয়ারম্যান

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা আগের চেয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। কারণ বর্তমান সরকারের ম্যান্ডেট ছিলো দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ অবস্থান। এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই দুর্নীতি রোধে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে।’

নুতন মন্ত্রিসভার সদস্যরা কাজ শুরু করার দিন দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার আমরা করবো। দলমত নির্বিশেষে আমরা কারো দিকে তাকাবো না। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার এ ব্যাপারে আমাদেরকে সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, স্বাস্থ্য-শিক্ষা বাণিজ্যসহ সব জায়গায় যে সব দুর্নীতি-অনিয়ম রয়েছে, তা প্রতিরোধ ও দমনের চেষ্টা করবো। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা কোনো বাধাই মানবো না।’

নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের হলফনামা খতিয়ে দুর্নীতি অনুসন্ধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইকবাল মাহমুদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রার্থীদের হলফনামা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করেছি। এটা নিয়ে কাজ করছি। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারাই দেশ চালাবে। তাই আমরা প্রত্যেকটা হলফনামা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে দেখবো।’

সাবেক কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়া কঠিন। সাবেক বা বর্তমান বলে কোনো কথা নেই, দুর্নীতিবাজ হিসেবে খ্যাত, দুর্নীতির গন্ধ যেখানে আছে আমরা সেখানে থাকবো। আপনারা যদি প্রশ্ন করেন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সরকারের অমুক; নো, উই উইল নট ডিফারেন্ট ফর অ্যানিবডি। আমরা সবাইকে একই পাল্লায় মাপতে চাই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি যিনি করেছেন বা করবেন আমরা তাদের ধরে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবো।’

সদ্য বিদায়ী কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ যদি থেকে থাকে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করবো, আমরা দৃশ্যমান কিছু করবো। আপনারও অভিযোগ দিতে পারেন। কথা এইটুকুই বলতে পারি যে, আপনারা এক মাস দুই মাসের মধ্যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন। এটা আমার ডিউটি।’

দুই মাসের মধ্যে কেন- এ প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘গত তিন মাসে কৌশলগত কারণে আমরা খুব বেশি কাজ করতে পারিনি। ওই কাজটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্যই দুই মাসের কথা বলেছি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধু বেসিক ব্যাংকই নয় অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে পাবেন। আর্থিক খাতসহ সকল খাতের দুর্নীতির বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। তবে কতগুলো বিষয়ে আমাদের প্রধান ফোকাস থাকবে। আর্থিক দুর্নীতি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা আমাদের পরিপূর্ণ শক্তি দিয়ে আর্থিক দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করবো।’