কলারোয়ায় ক্ষেত জুড়ে হলুদের সমারোহ, কৃষকের মুখে হাসি

জুলফিকার আলী, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি, পিটিবিনিউজ.কম
মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধুই হলুদের সমারোহ। মাঠ জুড়ে গুন গুন করছে মৌ-মাছি। এমনই দৃশ্য চোখে পড়বে সাতক্ষীরার কলারোয়াতে। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় এ ফসল আবাদে মনোযোগ দিয়েছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার তিন হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো। সেখানে আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে। কম খরচে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা এবার বোরো ধানের জমিতে আগাম জাতের ও অধিক ফলনশীল সরিষার চাষ করছেন।

সোনাবাড়ীয়ার কৃষক আজগর আলী জানান, তার জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করছেন। ধানের দাম কমে যাওয়ায় প্রতি বছরই তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে তারা এবার সরিষা চাষে প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি আরো জানান, সরিষা চাষে সার কম দিতে হয়। সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি লাগে না। একেবারই খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে দামও চড়া।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মহাসীন আলী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন। চলতি বছর বিঘা প্রতি সরিষার উৎপাদন ধরা হয়েছে ছয় মণ।

এদিকে, সরিষার রোগ বালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে উপ-কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নানান পরামর্শ দিচ্ছেন। এ উপজেলায় ফসলের মাঠগুলোতে এখন সরষের হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। রাস্তার ধারে কিংবা ফসলের মাঠে সবুজের মাঝে চোখ ধাঁধানো হলুদ সরষে ফুল। মাঠের পর মাঠ জুড়ে হলুদ ফুলের দৃষ্টি নন্দন মনোরম এক দৃশ্য। সকাল-বিকাল ছবি তুলতে ছুটছে ফসলের মাঠে ছেলে ও মেয়েরা। সরষের ফুল আকৃষ্ট করছে মৌমাছিসহ প্রকৃতি প্রেমীদের। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠের বুক জুড়ে সরিষা ফুলের অবারিত হাতছানি। সরষে ফুলের মৌ-মৌ গন্ধে ভ্রমরের ব্যাকুলতাই মন ভরে উঠছে চাষী-কৃষকের। এ উপজেলার কৃষকরা এখন সরিষার মাঠগুলোতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ সময়টা পোকা-মাকড়সহ বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলতে কৃষকদের বাড়তি পরিচর্যা করতে হচ্ছে। এবার এ উপজেলায় সরিসার লক্ষমাত্র ছিলো ৩৫৭০ হেক্টর, সেখানে আবাদ হয়েছে ৫১৪০ হেক্টর।