রাজধানী ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি

ঢাকার রাজপথে এভাবেই সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী নেওয়া হয়।ফাইল ছবি

পিটিবিনিউজ.কম ডেস্ক
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ১৩০টি স্থানে বাস স্টপেজের জন্য নির্ধারিত স্থান চিহ্নিত করা থাকলেও কোনো বাসই সেখানে থামছে না। ওইসব স্থানে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্ক করে রাখা হচ্ছে।

কয়েকমাস আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থী আন্দোলনের পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নিলেও সড়কে এর প্রতিফলন খুব কমই মিলছে। তবে পরিবহন মালিকরা দাবি করছেন, আগের চেয়ে সড়কে অনেক উন্নতি হয়েছে। চালকরাও সচেতন হচ্ছেন। তবে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঠিক আগের মতোই, সড়কের যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী তুলছে পরিবহন শ্রমিকরা। নির্দিষ্ট স্টপেজগুলোতে যাত্রীদের বসার জন্য দৃষ্টিনন্দন ছাউনির ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে অপেক্ষা করতে দেখা যায় না যাত্রীদের। এলোমেলোভাবে হুড়োহুড়ি করে বাসে চড়তে দেখা যায় যাত্রীদের। ফলে সড়কে বিশৃঙ্খলা থেকেই যাচ্ছে। খবর দৈনিক ইত্তেফাক।

গতকাল (৫ জানুয়ারি) বাংলামোটর মোড়, শাহবাগ, কাওরান বাজার, ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনের অংশ, মগবাজার, শান্তিনগর, আজিমপুর মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, শুক্রাবাদ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী বাস স্টপেজ, মিরপুরসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে নির্দিষ্ট স্থানে বাস স্টপেজের সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। তবে নির্ধারিত এসব স্থানে খুব একটা বাস থামতে দেখা যায়নি। যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে যত্রতত্র। কখনও কখনও নির্ধারিত ওই স্থানে ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশাকে দাঁড় করিয়ে রাখতে দেখা যায়। অন্যদিকে রাস্তা পারাপারের জন্য সেতু, জেব্রা ক্রসিং থাকলেও তা ব্যবহার করছেন না পথচারীরা। আগের মতোই গাড়ির ফাঁক গলে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা। আবার অনেক জায়গায় জেব্রা ক্রসিংয়ের উপরেই পরিবহনগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

যাত্রীরা বলছেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে বাস স্টপেজ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে বাস থামে না। আগের মতোই যেখানে সেখানে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হয়। ফলে আমাদের বাধ্য হয়েই স্টপেজের বাইরে গিয়ে বাসে উঠতে হয়।

গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সভায় নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী ২০ অক্টোবরের মধ্যে ওই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দাবি, তাদের দায়িত্বগুলোর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ পালন করা হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সড়কে সিগন্যাল বাতি, বাস স্টপেজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার উপযোগী করার দায়িত্ব ছিল সিটি করপোরেশনের।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক সার্কেল) আনিছুর রহমান বলেন, প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের যে নির্দেশনা রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা কাজ চলমান রেখেছি। রোড মার্কিংয়ের যে রঙ রয়েছে তার স্থায়িত্বকাল তিন মাস। এ কারণে ওই নির্দিষ্ট সময় পরপর আবার কাজ করতে হয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনাগুলো সব পরিবহন মালিককে জানিয়ে দিয়েছি, যারা এই নির্দেশনা মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে অনেকবার ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে অভিযান করেছি। তবে এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। চালকরাও সচেতন হচ্ছেন।