শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন সৈয়দ আশরাফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সহকর্মী ও ভক্ত-অনুরাগীরাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তার মরদেহে ফুল দিয়ে চোখের জলে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়েছেন তারা।

ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মারা যাওয়া আশরাফের মরদেহ আজ শনিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তার মরদেহ গ্রহণে সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় আশরাফের কফিন উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। সেখানেই তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতা-কর্মীরা। জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় এই মুক্তিযোদ্ধার কফিন। এরপর সৈয়দ আশরাফের মরদেহ আনা হয় ঢাকার বেইলি রোডে তার সরকারি বাসভবনে। বিকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ।

বাড়ির ভেতরের খোলা জায়গায় সামিয়ানা টাঙিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ করে সেখানে সৈয়দ আশরাফের কফিন রাখা হয়। এরপর সারি ধরে দাঁড়িয়ে তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সর্বস্তরের মানুষ, যাদের মধ্যে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণির পেশার মানুষ ছিলেন।

শেষ বারের মতো প্রিয় নেতাকে দেখতে সমবেত হয়েছেন ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের নেতা-কর্মীরাও; যেখানে শৈশব ও যৌবনের সময়গুলো কেটেছে সৈয়দ আশরাফের।

শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন রাজনীতির দিকপাল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার অনস্বীকার্য অবদান, যা তাকে অবিস্মরণীয় করে রাখবে। সব সময় সাধারণ জীবন-যাপন করতেন। রাজনীতি ও পরিবারের মধ্যে সব সময় রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতেন তিনি। তার চলে যাওয়া আমার অপূরণীয় ক্ষতি।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, রাজনৈতিকভাবে উনার কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সত্যিই তাকে ভোলা যাবে না। আদর্শের দিক থেকে তিনি কখনো সরে আসেননি। তিনি বলেন, সহজ-সরল জীবন-যাপন করা সৈয়দ আশরাফকে তার রাজনৈতিক আদর্শের জন্য আওয়ামী লীগসহ অন্যান্যরাও তাকে ভুলতে পারবে না। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনুসরণীয় হয়ে থাকবেন।

বেইলি রোডের সরকারি বাসভবন থেকে নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমাগারে রাখা হবে আশরাফের মরদেহ। রোববার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা হবে। এরপর হেলিকপ্টারে করে সৈয়দ আশরাফের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার জেলা কিশোরগঞ্জে। দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে সৈয়দ আশরাফের দ্বিতীয় জানাজা হবে। এরপর তৃতীয় নামাজে জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাঁ মাঠে সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে মরদেহ ঢাকায় নিয়ে এসে বাদ আসর বনানী কবরস্থানে দাফন হবে সৈয়দ আশরাফকে।

গত ৩ জানুয়ারি ব্যাংকক সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম ও মুক্তযুদ্ধকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারী হয়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। টানা দুই বার মুক্তযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনে পাঁচবারের এই সংসদ সদস্য।