নতুন করে ভোট নেওয়ার সুযোগ নেই: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে নির্বাচনে ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পুনঃভোটের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘আমরা আর নতুনভাবে নির্বাচন করবো না; আর নতুন করে ভোট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

আজ সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিইসি ঐক্যফ্রন্টের দাবির বিষয়ে এসব কথা বলেন। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্ট কিংবা বিএনপি লিখিত অভিযোগ দিলে কী করবেন ও পরবর্তীতে গেজেট প্রকাশের ধাপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটের বিবেচনায় ফল নির্ধারিত হয়েছে। এখন লিখিত অভিযোগ দিলেও গেজেট প্রকাশের ক্ষেত্রে তা প্রতিবন্ধকতা হবে না।’

রোববার সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে ঘোষিত ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ এককভাবে পেয়েছে ২৫৯টি আসন, আর মহাজোটগতভাবে তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৮টি। ১৪ দলীয় জোটের দলগুলোর মধ্যে জাসদ দুটি, ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি, বিকল্প ধারা দুটি, তরীকত ফেডারেশন একটি আসনে জিতেছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের মিত্র দল জাতীয় পার্টি (জেপি) বাইসাইকেল প্রতীকে একটি আসনে জিতেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে বিএনপি পাঁচটি আসনে জিতেছে, গণফোরাম দুটি আসনে জিতেছে। তিনটি আসনে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

তবে ভোটে বাধা দেয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে বিএনপি-জামায়াত জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্তত ৩১ জন প্রার্থী দুপুরেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ভোটগ্রহণ শেষে রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান।

প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধানের বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছে, সেভাবে ভোট হয়েছে।’

ভোটের আগের রাতে ১০০টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়ার অভিযোগ নাকচ করে সিইসি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অসত্য কথা।’

এ প্রশ্নে কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট। আমরা অতৃপ্ত না। গণমাধ্যমের তথ্য ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে ভোটের গ্রহণযোগ্যতাও রয়েছে; অনিয়মের বিসয়ে এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি।’