ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

ফাইল ছবি।

নিউজ ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
প্রার্থীদের ভোট বর্জন ছাড়াও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। খন শুরু হয়েছে ভোট গণনার কাজ। এরপর শুরু হবে ফল ঘোষণা। আজ রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টায় বিরতিহীনভাবে শুরু হওয়া ভোট শেষ হয় বিকাল ৪টায়।

সরজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী-পুরুষ ভোটাররা শীত উপেক্ষা করে লাইন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এবারেই কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হয়েছে। যে ছয়টি আসনে ইভিএমে ভোট হয়েছে, সেসব আসনের ভোটাররা যন্ত্রের সাহায্যে ভোট দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হয়। ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৩ জন ভোটার। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট হয়নি।এই আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৭ জানুয়ারি।

এদিকে ভোটে কারচুপি, এজেন্টদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বিবৃতি দিয়ে ভোট থেকে সরে গেছে ধানের শীষে নির্বাচন করা জামাতও। এবারের নির্বাচনের দিন সারা দেশে মোট ১৩ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ছয়জন। এছাড়া একজন বিএনপির ও একজন ইসলামী ছাত্র সেনার নেতা। বিভিন্ন ঘটনায় আহত হয়েছেন শতাধিক। যশোরের একজন প্রার্থীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। ভোটারেরাও ভোট দেয়া নিয়ে নানা অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সামনে সিল দিতে বাধ্য করা, ব্যালট নিয়ে কর্মীদের সিল দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে রাজধানী ঢাকায় ভোট গ্রহণের সময় সংঘর্ষ বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভোট দেয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু্ ও সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা আমিও শুনেছি। নির্বাচন শেষ হলে এটা অংশগ্রহণমূলক হয়েছে কি না তা বলা যাবে।

দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া আছে। তারা কেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে ওই সব কেন্দ্রের ভোট বন্ধ করে দিতে বলা আছে। পরে এসব কেন্দ্রে আবারো ভোট হবে।’

রাজধানীর সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আই অ্যাম অলওয়েজ কনফিডেন্ট। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমার বিশ্বাস, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শক্তির জয় হবে। স্বাধীনতার পক্ষের জয় হবে। উন্নয়ন অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য নৌকা মার্কার ভোট দেবে। আমি জানি বাংলার জনগণ আমাদের বেছে নেবে। নৌকার জয় হবেই হবে।

আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন ভিকারুননিসা নূন কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদেরই জয় হবে।

ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ছয় লাখ আট হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, কোস্টগার্ড, বিজিবি সদস্যরা রয়েছেন।

একনজরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ভোটকেন্দ্র ৪০ হাজার ১৮৩টি। ভোটকক্ষ দুই লাখ সাত হাজার ৩১২টি। মোট ভোটার ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার পাঁচ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৫ জন, মহিলা ভোটার পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১২ জন। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩৯টি। মোট প্রার্থী এক হাজার ৮৬১ জন। রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৩৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২৮ জন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ছয় লাখ আট হাজার
ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত ফোর্স সংখ্যা প্রায় ছয় লাখ আট হাজার। এর মধ্যে পুলিশ প্রায় এক লাখ ২১ হাজার, আনসার প্রায় চার লাখ ৪৬ হাজার, গ্রাম পুলিশ প্রায় ৪১ হাজার। সেনাবাহিনী (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) ৩৮৯টি উপজেলায় ৪১৪ প্লাটুন, নৌবাহিনী ১৮টি উপজেলায় ৪৮ প্লাটুন, কোস্টগার্ড (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) ১২টি উপজেলায় ৪২ প্লাটুন, বিজিবি (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) ৯৮৩ প্লাটুন, র‌্যাব (প্রতি প্লাটুনে ৩০ জন) প্রায় ৬০০ প্লাটুন ভোটের মাঠে নিয়োজিত আছে। এছাড়া মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সংখ্যা (র‌্যাবসহ) প্রায় দুই হাজার প্লাটুন (প্রায় ৬৫ হাজার), এছাড়া সারা দেশে জেলা ও মেট্রোপলিটনে পুলিশের টহল দল নিয়োজিত রয়েছে।

নির্বাচনে নিয়োজিত এক হাজার ৩২৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ৬৫২ জন, অবশিষ্ট ৬৭৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্সের সঙ্গে নিয়োজিত রয়েছেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬৪০ জন, ১২২টি ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটিতে ২৪৪ জন।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা
এবার ভোটে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ৬৬ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে দুজন বিভাগীয় কমিশনার এবং ৬৪ জন জেলা প্রশাসক। নির্বাচনে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ৪০ হাজার ১৮৩ জন, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দুই লাখ সাত হাজার ৩১২ জন এবং পোলিং অফিসার চার লাখ ১৪ হাজার ৬২৪ জন।

পর্যবেক্ষক
নির্বাচনে দেশি ৮১টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ২৫ হাজার ৯০০ জন এবং ওআইসি ও কমনওয়েলথ থেকে আমন্ত্রিত ও অন্যান্য বিদেশি পর্যবেক্ষক ৩৮ জন, কূটনৈতিক/বিদেশি মিশনের কর্মকর্তা ৬৪ জন এবং বাংলাদেশে দূতাবাস/হাইকমিশন বা বিদেশি সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি ৬১ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।