সিইসির আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে বৈঠক বয়কট ঐক্যফ্রন্টের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মঙ্গলবার বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার ‘অশোভন’ আচরণে অসন্তুষ্ট করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। তাৎক্ষণিকভাবে এই আচরণের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বয়কট করে বের হয়ে এসেছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনসহ অন্যরা। আজ মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ১০ জন নেতা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে করতে যান। বৈঠক শুরুর দেড়ঘণ্টার মাথায় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বৈঠক ত্যাগ করে উঠে আসনে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে বিএনপির মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। গতকাল সোমবার থেকে অবস্থার বেশি অবনতি হতে শুরু করেছে। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশন ও সরকার যৌথভাবে বিরোধী জোটের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবো না। তিনি বলেন, সারা দেশে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের হত্যা, আক্রমণ অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। পুলিশ বিরোধী দলের ওপর চড়াও হচ্ছে। বিষয়গুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানিয়েছি। কিন্তু তার আচরণ দেখে মনে হয়েছে তিনি এতে গুরুত্ব দেননি। এসব বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেখাননি। এমন আচরণ করেছেন যেন আমরা মিথ্যা অভিযোগ করেছি। এ অবস্থায় আমরা সভা বর্জন করে সেখান থেকে উঠে এসেছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আসলে সরকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে তার জবাব জাতির কাছে এসে গেছে। ঢাকা শহর দেখে মনে হচ্ছে না দেশে নির্বাচন হচ্ছে। এ নির্বাচন সাংবিধানিক ধারা রক্ষার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের উদ্দ্যেশ কি?

নির্বাচন থেকে সরে আসবেন কি না এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে। তবে আমরা সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবো না।

ঐক্যফ্রন্টের অপর নেতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পুলিশ সর্বত্র লাঠিয়াল বাহিনীর কাজ করছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিষয়টি আমরা বলার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন। আমরা তাঁকে বলেছি সাংবাদিকেরা ভালোভাবে চলাফেরা করলে জনগণের লাভ হতো সেটা বন্ধ করে দিয়েছেন। মনে হচ্ছে উনি ওপরের কারো নির্দেশে চলছেন।

অভিযোগ জানানোর সময় আমরা ভেবেছিলাম সিইসি সহানুভূতি দেখাবেন। কিন্তু তিনি তার ধারের কাছেও গেলেন না। উল্টো পুলিশের পক্ষ নিলেন।

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, সেনাবাহিনী ইসির নিয়ন্ত্রণে। তাদের বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তাদের ক্যাম্পে রেখে পুলিশ তাণ্ডব চালাচ্ছে। এসব করে সেনাবাহিনীকে হেয় করা হচ্ছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ ১০ নেতা সিইসি কে এম নূরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। এর দেড় ঘণ্টার মধ্যে তারা বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে আসেন।

এই বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সুব্রত চৌধুরী ও মোস্তফা মহসীন মন্টু। আর নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন- সিইসি কেএম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।