বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক ইতিবাচক বছর

ফাইল ছবি

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
২০১৮ সালটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বছর হিসেবেই ধরতে হবে। এ বছরে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যেটি এক বছরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোর ২১টিতে জিতেছে বাংলাদেশ (৩ টেস্ট, ১৩ ওয়ানডে ও ৫ টি-টোয়েন্টি)। সেটিও দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

এ ছাড়াও আরেকটি ‘সর্বোচ্চর’ রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে এ বছরই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছে বাংলাদেশের জার্সিতে। মোট ১৪ জন ক্রিকেটারকে বিভিন্ন সংস্করণে ১৯ বার ক্যাপ পরিয়ে দেয়া হয়েছে ম্যাচ শুরুর আগে। তবে এই ১৪ ক্রিকেটারের মধ্যে ১০ জনই প্রথমবারের মতো পা রেখেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

সানজামুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুন, আবু হায়দার রনি ও নাজমুল হোসেনের আগেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। আরিফুল হক ও নাজমুল ইসলামের অভিষেক হয়েছে তিন সংস্করণেই, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে ডানহাতি পেসার আবু জায়েদের। অর্থাৎ নতুনের আবাহনে ভেসেই এই বছরটা পার করে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট।

জাতীয় দলের নিয়মিত মুখদের ঠেলে এতো নতুনের আসার কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্য কোনো খেলোয়াড়ের চোট আর স্বল্প পরিসরে দলের সঠিক ভারসাম্য খুঁজে ফেরা। নতুনদের প্রায় অর্ধেকই যদিও দারুণ কিছু করতে পারেননি সুযোগ পেয়ে। অভিষেক ম্যাচের পরই যেন বিস্মৃত হয়ে গেছেন জাকির হাসান, আফিফ হোসেন ও মেহেদী হাসান।

বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১ম টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া জাকির (১০ রান) ও আফিফ (০ রান ও ২৬ রানে ১ উইকেট) পরে আর সুযোগ পাননি। এই দুই অভিষিক্তকে রেখে পরের ম্যাচে সুযোগ দেয়া হয় ডানহাতি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসানকে (১১ রান ও ২৫ রানে উইকেট নেই)। এই তিন তরুণের কাউকেই পরের কোনো সিরিজে ডাকেননি নির্বাচকেরা। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে রানের মধ্যে থাকা ফজলে রাব্বিও কাজে লাগাতে পারেননি ত্রিশের কোঠায় এসে পাওয়া আরাধ্য সুযোগটি। সাকিবহীন জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে সুযোগ পেয়ে কোনো রানই করতে পারেননি রাব্বি।

তবে দুজন অভিষেক রাঙিয়ে দিয়েছেন আস্থার প্রতিদানে। চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ৫ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়েছেন তরুণ নাঈম হাসান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষিক্ত ওপেনার সাদমান ইসলাম ৭৬ রানের ইনিংস দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছেন সাদা পোশাকের ক্রিকেটে।

এছাড়া অভিষেকে দৃষ্টি কেড়েছেন পেসার খালেদ আহমেদও, যদিও তাঁকে বলতে হবে ‘দুর্ভাগা’। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে এই ডানহাতি পেসার উইকেট পাননি তাঁর বলে ওঠা ক্যাচগুলো ফিল্ডাররা নিতে না পারায়। অন্তত চারবার ক্যাচ পড়েছে তাঁর বলে। তবে নিউজিল্যান্ড সফরে কোচ স্টিভ রোডসের সুদৃষ্টি তাঁর ওপর থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখা ১০ ক্রিকেটারের মধ্যে সবচেয়ে নিয়মিত আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম ও আবু জায়েদ। ১৯ ম্যাচ খেলে ১৭টি উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম (১ টেস্টে ৪টি, ৫ ওয়ানডেতে ৫টি, ১৩ টি-টোয়েন্টিতে ৮টি)। আবু জায়েদ জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে ছিলেন মূল পেসার। তিনটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলে উইকেট নিয়েছেন আটটি ও চারটি। আরিফুল নজর কেড়েছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে প্রথম টেস্টে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থেকে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ রান করে। আগামী বছরের বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে বেশ ভালোই বিবেচনায় আছেন আরিফুল।

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন এ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্তদের নিয়ে মোটের ওপর সন্তুষ্ট। কাল তিনি বলেন, ‘অভিষিক্তরা ভালো করেছে, ব্যাপারটা স্বস্তির। প্রয়োজনের সময় এদের বিকল্প হিসেবে কাজে লাগানো যাবে, এই আস্থাটা আমরা পেয়েছি। এই বিশ্বাসটাও আমাদের এখন আছে যে ওদের তুলে আনার প্রক্রিয়াটা ঠিক আছে।’