বড় হারে সিরিজ হাতছাড়া বাংলাদশের

স্পোর্টস ডেস্ক, পিটিবিনিউজ.কম
ইতিহাস গড়া হলো না টাইগারদের। টেস্ট এবং ওয়ানডে জয় পাওয়া বাংলাদেশ, টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরে গেলো ২-১ ব্যবধানে। কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরজে ধারাবাহিক তিনটি ট্রফি জয়ের মাইলফলকের সামনে ছিলো টাইগাররা। আজ শনিবার (২২ ডিসেম্বর) হেরে যাওয়ায় সেই রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ। সাকিবদের এই মাইলফলক স্পর্শ করার ম্যাচে ঘটে যায় নাটক। সেই নাটকেই শেষ সাকিবদের সিরিজ জয়ের স্বপ্ন। শেষ টি-টোয়েন্টিতে টাইগাররা হেরেছে ৫০ রানের বড় ব্যবধানে। সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজও।

‘ট্রিপল’ সিরিজ জেতার আরেকটা সুযোগটাও সেই সঙ্গে হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজে এখনো একসঙ্গে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা হয়ে ওঠেনি সাকিবদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-০ তে টেস্ট, ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি শেষ হয়েছে হতাশায়, ১-২ ব্যবধানে হেরে।

এভিন লুইস। বলতে গেলে এ মারকুটে ওপেনার একাই শেষ করে দেন বাংলাদেশকে। তার দুর্দান্ত ইনিংসে (৩৬ বলে ৮৯ রান) প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৯.২ ওভারে ১৯০ রান তুলে ( অলআউট) সফরকারীরা। লুইস তাণ্ডবে পর বাকিটা শেষ করে দেন কেমো পল, বল হাতে। নেন ১৫ রানে ৫ উইকেট। তার পেসে বাংলাদেশ অলআউট ১৭ ওভারে, মাত্র ১৪০ রানে।

টস জিতে পরে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। অধিনায়কের সিদ্ধান্তটা দলের বিপক্ষে গেছে, ক্রিকেট বোদ্ধাদের মত এমনটাই।

ওপেনার এভিন লুইসের ‘পাওয়ার’ ব্যাটিংয়ে শুরুতেই তোপের মুখে পড়েন পেসার আবু হায়দার রনি। ২ ওভারে দেন ৩৯ রান। রনির বাজে বোলিংয়ে শুরুতে দারুণ ভিত পেয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩.১ ওভারেই ৫০ রান যোগ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোর বোর্ডে। ১২ বলে ২৩ করে সাকিবের বলে ফেরেন শাই হোপ। কিন্তু তাতে মোটেও নির্ভার থাকতে পারেনি বাংলাদেশ। লুইসের ব্যাটে যে আগুন! মাত্র ১৮ বলে ৫ ছক্কা ও তিন চারে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন লুইস। সেই সঙ্গে বাংলাদেশকে শুরুতে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন এ মারকুটে ওপেনার।

কেমো পলকে উইকেটে অবশ্য সেট হতে দেননি মোস্তফিজুর রহমান। ২ রানে তাকে ফেরান এ পেসার। ওদিকে মাত্র ৭.১ ওভারে ১০০ রান পূরণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। যেখানে প্রথম পাওয়ার প্লের ( প্রথম ৬ ওভার) অবদান ৮৮, এক উইকেটে!

যেভাবে ব্যাট করছিলেন, মনে হচ্ছিলো সেঞ্চুরি করে ফেলবেন লুইস। ‘মাসল’ ব্যাটিং! তবে ৩৬ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলার পর অনিয়মিত বোলার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বলে ফিরতে হয় তাকে। রিয়াদের পরের বলে বিনা রানে ফেরেন হেটমায়ার। টানা দুই বলে রিয়াদের ২ উইকেট। রিয়াদের কল্যাণে রানের গতিও কিছুটা কমে।

ওদিকে রোভম্যান পাওয়েল ও নিকোলাস পুরান নতুন করে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান। শুরুতে সময় নিলেও আস্তে আস্তে হাত খুলে ব্যাট করছিলেন তারা। অবশ্য বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারেননি। ১৬ বলে ১৯ রান করার পর রিয়াদের বলে ফিরেন পাওয়েল। এরপর ২৪ বলে ২৯ রান করে মোস্তাফিজের বলে বিদায় নেন পুরান। ব্র্যাথয়েট ৮ রানে আউট হন মোস্তাফিজে বলে। এরপর সাকিব দ্রুত দুই উইকেট নিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয় ১৯০ রানে। সাকিব, মোস্তাফিজ ও রিয়াদ তিনটি করে উইকেট নেন।

বাংলাদেশের সামনে ১৯১ রানের বড় টার্গেট। শুরুটা উড়ন্ত হতে হবে। যেমনটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিলো। কিন্তু ৬ বলে ৮ রান করার রান আউট হয়ে যান তামিম ইকবাল। শুরুতেই বড় ধাক্কা। ব্যাস, বাংলাদেশের অর্ধেক সম্ভাবনা এখানেই শেষ। লিটন এক প্রান্তে ভালোই খেলছিলেন কিন্তু দলকে হতাশ করে দ্রুত বিদায় নেন সৌম্য (৯), সাকিব (০) ও মুশফিক (১)।

৬৬ রানে ৪ উইকেট নেই। লিটনের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আছেন। শেষ আশা। কিন্তু ২৫ বলে লিটন ৪৩, আর ১১ বলে রিয়াদ ৮ করে ফিরে গেলে হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। পেসার কেমো পলের পেস বিষে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ শেষমেষ ১৭ ওভারে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট। সাত-সাতজন ব্যাটসম্যান ছুঁতে পারেননি দুয়ের অঙ্ক। মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট নেন পল। টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার সেরা বোলিং।