ভোটের মাঠে উত্তাপ না থাকলে ভালো লাগে না: রফিকুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, পিটিবিনিউজ.কম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংঘাত-সংঘর্ষ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতিই এমন যে, ভোটের মাঠে উত্তাপ না থাকলে ভালো লাগে না।’

আজ শুক্রবার রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে এক কর্মশালার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনীতি ছাড়াই, আমরা এমনিতেই একটু …মারামারি… আমরা একটু উত্তপ্ত, গরম বাক্য বিনিময় করতে অভ্যস্ত। আর যখন শিডিউল ঘোষণা করা হয়, তখন হতে আরেকটু গরম হয়ে যায়। আর এই উত্তাপ না থাকলে পরে ভালো লাগে না।’

এ প্রসঙ্গে বিয়ে বাড়ির প্রসঙ্গ টেনে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘একটা বিয়ে বাড়িতে দেখেন, সামান্য এটা নিয়ে… ওই যে গেইট ধরে, গেইট ধরার সময় বর এবং কনে পক্ষের মধ্যে এই যে কথা কাটাকাটি শেষ পর্যন্ত মারামারি হয়, তারপরে বিয়েটাও হয় কিন্তু।’

ভোটের মাঠে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার জন্য বিএনপি দাবির প্রসেঙ্গে রফিকুল বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা পুলিশ, র‌্যাব বা সেনাবাহিনী, কারো হাতেই বিচারিক ক্ষমতা নেই। যার হাতে অস্ত্র থাকে তার কিন্তু বিচারিক ক্ষমতা থাকে না। কারণ এটা বাংলাদেশের সংবিধানের জন্য স্ববিরোধী।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিচারিক ক্ষমতা নিয়ে কেউ থাকে না। যদি কোনো অঘটন ঘটে তা হলে সেনাবাহিনী যেমন যে কোনো লোককে গ্রেপ্তার করতে পারে, সহিংস ঘটনা ঘটলে তারা ফায়ারও করতে পারে। পরে যদি প্রয়োজন হয়, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে… নিতে পারবেন। আর জীবন রক্ষার জন্য, যদি তার জানমালের ক্ষতি হয়ে যায়, তাহলে এমনিতেই উনি ফায়ার ওপেন করতে পারেন, অ্যারেস্ট করতে পারেন।’

আদালতের নির্দেশে বেশ কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিএনপি পুনঃতফসিলের যে দাবি তুলেছে, সে প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আইনি বিষয় খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে ‘নির্বাচনে নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক এক সচেতনতামূলক কর্মশালায় বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘শুধু নারী নয়, সকলে যেন নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন, তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তা আমরা নেবো।’

নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে এ কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদের বক্তব্য দেন।